সুন্দরবনকে বাঁচতে দিন


Spread the love

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। সিডর-আইলার ভয়াবহতা আমাদের চিন্তার সীমাকেও ছাড়িয়ে যেত, যদি এই সুন্দরবন নিজেকে উজাড় না করে দিয়ে আমাদেরকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হত। ৫ লক্ষ মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোহাই দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে এবার এই সুন্দরনটাকেই উজাড় করতে চলেছে রামপাল কয়লা ভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে।

সুন্দরবন থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের রামপালে হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটা আয়তনে (১৮৩৪ একর) প্রায় তিনটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সমান।  হিসেবের মারপ্যাঁচে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে সুন্দরবন থেকে ‘নিরাপদ’ দূরত্বে দেখানো হচ্ছে। আর এ কেন্দ্র চালাতে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ১৩ হাজার টন কয়লা পরিবহনের নৌরুট ঠিক করা হয়েছে পশুর নদে, যা সুন্দরবনের গভীরতম অংশের ভেতর দিয়েই প্রবাহিত। বিশাল সব জাহাজের চলাচলের শব্দ, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া কয়লার ভাঙ্গা টুকরা, বর্জ্য আর সার্চলাইটের তীব্র আলোয় শুরু হবে সুন্দরবনের দূষণ।

উৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট
ছবি ১: পশুর নদের পার ঘেঁষে (লাল দাগ চিহ্নিত) রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। উৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট

এরপর পশুর নদের পানির ব্যবহার, কয়লা মজুদ ও খালাসের জন্য নদটির পাড় ঘেঁষে তৈরী অবকাঠামো এবং নদ থেকে মাত্র ১২০ মিটার দূরে বিশালাকার ছাইয়ের পুকুর থেকে ছড়ানো আর্সেনিক, পারদ, সীসা, নিকেল, রেডিয়ামসহ নানা বিষাক্ত উপাদান, প্রতিদিন ১৪২ টন সালফার ডাই অক্সাইড ও ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এর উদগিরণ আর বিপুল পরিমাণ উড়ন্ত ছাই ছড়িয়ে পড়বে বন জুড়ে। আর এই দূষণের প্রথম শিকার হবে সুন্দরবনের পানি প্রবাহের অন্যতম উৎস পশুর নদ। অথচ পশুর নদসহ চারদিকে যে  সকল জলাধার রয়েছে তা সুন্দরবনের প্রাণ-ভোমরা। এর যে কোন একটির ক্ষতি মানে সুন্দরবনেরই  ক্ষতি! বাস্তবিক অর্থে সুন্দরবনকে তার সামগ্রিক প্রতিবেশগত ব্যবস্থা থেকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করে দেখার অবকাশ নেই। তাই রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবন থেকে কত দূরে অবস্থিত, সেই প্রশ্ন এখানে মোটেই আর প্রাসঙ্গিক থাকে না।

উৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট
ছবি ২: সুন্দরনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনের জন্য
পরিকল্পিত নৌরুট।
উৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট

এছাড়া এই পশুর নদ এবং এর সংলগ্ন মেদারা এবং চিংকুরা নদের মোহণায় ইলিশ, পারশে, ভেটকী, তাপসী, তুলারডাণ্ডীসহ যে ১২০ রকম প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়, তার সবই ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে। এতে এই অঞ্চলের দরিদ্র মৎস্য জীবিদেরও জীবিকা নির্বাহের আর কোন উপায় থাকবেনা। ইরাবতী ডলফিনের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার শঙ্কা বাদ দিলেও সুন্দরবনের প্রাণ-ভোমরা এই সীবশা-পশুর নদ ব্যবস্থার চরমতম দূষণের মাধ্যমে সুন্দরবনের আসন্ন ধ্বংস সুনিশ্চিত। ইতোমধ্যেই যারা জমি অধিগ্রহণের পর সামান্য অর্থ পেয়েছেন, তা ঋন পরিশোধে ব্যয় করে ফেলেছেন। সব কিছু হারিয়ে তারা হয়েছেন বাস্তুভিটাচ্যুত, ছড়িয়ে পড়ছেন নতুন জীবিকার সন্ধানে। এই সব বাস্তবতা ও মানবিক বিপর্যয়কেও অস্বীকার করা যাবে না কোনভাবেই।

ছবি ৩: প্রকল্পটির প্রস্তাবিত নকশা রেখাউৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট
ছবি ৩: প্রকল্পটির প্রস্তাবিত নকশা রেখা
উৎস: CEGIS, ২০১৩, ইআইএ রিপোর্ট

এই প্রকল্পটি বানিজ্যিক দিক থেকেও খুব সফল হবে তা বলা যায় না। যতই বলা হোক উন্নত মানের কয়লা আমদানী করা হবে, কিন্তু বিদেশ থেকে লাইটারেজের মাধ্যমে পরিবহন করে বন্দরে আনতে গেলে, এর পরিবহন খরচ হবে অনেক বেশী। তাছাড়া এই প্রকল্পের জন্য বিদেশ থেকে আমদানী করা কয়লা প্রাপ্যতা, দাম ও পরিবহন খরচের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেওয়া যায় না।

আবার রামপাল প্রকল্পে ভারতের কোম্পানী এনটিপিসি মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগে সমান (৫০%) অংশীদারিত্ব পাচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ এবং প্রতিবেশগত বিপর্যয়ের বোঝা টানবে মূলত: বাংলাদেশ। আশ্চর্যের ব্যপার হচ্ছে ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ‘তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সংক্রান্ত গাইডলাইন–আগস্ট ২০১০’ অনুসারে কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জীব বৈচিত্র্য সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিষিদ্ধ। অথচ বাংলাদেশে রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতীয় কোম্পানী নিজ দেশের আইন ভঙ্গ করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এধরনের কোন আইন না থাকায় ভারতীয় কোম্পানী বাংলাদেশের কোন আইন ভঙ্গ না করার দাবী করতে পারে। কিন্তু সুন্দরবনের মত এই বিশ্বসম্পদ সংরক্ষণের দায় শুধু বাংলাদেশের নয়, এই দায়িত্ব যে ভারতেরও, তা এই ভারতীয় কোম্পানী সুস্পষ্টভাবেই উপেক্ষা করছে।

এমনকি এই প্রকল্পের মারাত্নক দূষণের শংকাকে ‘সুপার ক্রিটিকাল’ প্রযুক্তি ব্যবহারের দোহাই দিয়ে খারিজ করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। যদি ‘সুপার ক্রিটিকাল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করাও হয়, তবে দূষণ কমবে মাত্র ১০ ভাগ। এ ধরণের প্রকল্পের শুরুতে সাধারণত দূষণ রোধে নানান ধরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয় না,  আর তা হলেও প্রযুক্তির উচ্চব্যয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আর সুলভ থাকে না। তাছাড়া ‘সুপার ক্রিটিকাল’ প্রযুক্তি দিয়ে যদি দূষনের মাত্রা কমানোই যায়, তাহলে ভারত তার বনসীমার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরণের  বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মান আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করলো কেন?

অন্যদিকে রামপাল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিবেশ অধিদপ্ত র থেকে অবস্থান সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রাপ্তি, পরিবেশগত সমীক্ষা দলিল (ইআইএ) প্রকাশের পূর্বেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরুর প্রায় ২ বছর পর যে ইআইএ প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ‘যদি-তবে’, ‘হয়তোবা হবে’, ‘আশা করা যায়’- এ জাতীয় ওজনহীন ও বায়বীয় কথাবার্তার মাধ্যমে সুন্দরবন সুরক্ষার দিকটি উপেক্ষা করা হয়েছে। এর উপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ-সচেতন মহলের সকলে একযোগে ইআইএ বাতিলের দাবি জানালেও অতি সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেউ কেউ আবার বলেন যে, এই প্রকল্প দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্ম সংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এতে সুন্দরবনের উপর চাপ  কমবে এবং এটি বেদখলের হাত থেকে বাঁচবে। তবে এ চিন্তার বিপরীতে দুটি প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা খুব জরুরি। প্রথমটি হল– ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত, একই রকম যুক্তিতে সুন্দরবনকে রক্ষা এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের নামে বননির্ভর দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট আইপ্যাক(২০১০-২০১৩), সুন্দরবনের পরিবেশগত নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান  সংক্রান্ত (২০১০-২০১৪) প্রকল্পসহ কমপক্ষে ১০টি প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করছে। তাহলে সুন্দরবন রক্ষায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সেগুলোর কার্যকারিতা  কী? এগুলোর অস্তিত্ব থাকা সত্বেও দরিদ্র মানুষদের জীবিকার ব্যবস্থার জন্য বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রামপালে এবং সুন্দরবনের এত কাছে, এত জরুরি হয়ে পড়ল কেন? উপরন্তু, ২০১১ সালে বাংলাদেশ-ভারত সুন্দরবন রক্ষায় যৌথ স্মারক সমঝোতাসহ বাঘ সংরক্ষণের নামে যে প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে, সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগই বা কী?  দ্বিতীয়টি হল, সুন্দরবনের অবৈধ দখল নেওয়ার ক্ষমতা কী কখনো বন-নির্ভরদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছিল? বনের জমি বেদখল হয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতাপশালী ব্যক্তিদের দ্বারা, রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ায়। সুন্দরবন কিংবা অন্য যে কোন বনাঞ্চল দখল করা এসব দরিদ্র মানুষের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আবার যারা এই তাপ বিদ্যুতকেন্দ্রের বিরোধিতা করছেন, তাদেরকে বলা হচ্ছে উন্নয়ন বিরোধী। তারা নাকি বিকল্প জ্বালানির উৎসের সন্ধান না দিয়ে পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে পরিবেশ/প্রকৃতি এবং উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে উন্নয়ন পরিবেশকে উপেক্ষা করে, তার শিকড় হয়ে পড়ে দুর্বল ও ব্যাধিগ্রস্ত। সেই উন্নয়ন কখনো টেকসই হয়না, তার পতন অনিবার্য।

আবার রামপাল প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় সরকারীভাবে মধ্যমপন্থা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এখানে স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, দেশের অন্য কোন জায়গায় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে দূষণের মাত্রা কমিয়ে কীভাবে তা জন-পরিবেশ বান্ধব করা যায় সে ব্যাপারে মধ্যমপন্থা গ্রহণকরা যেতে পারে। কিন্তু সুন্দরবনের গুরুত‌্ব বিবেচনায় এ ব্যাপারে সর্বাবস্থায় এই বিশ্ব সম্পদের  পক্ষাবলম্বনের কোন বিকল্প নেই।

প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, কিন্তু আমাদের সুন্দরবন একটাই। তাই ঝড়-ঝঞ্জা-জলোচ্ছাসে আগলে রাখুক বাংলাদেশকে। তাই আমরা আশা করি ভারত ও বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবন সুরক্ষার দায়িত‌্ব যথাযথভাবে পালন করবে। রামপাল প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করে বাঁচিয়ে রাখবে সুন্দরবন। কোন কৃত্রিম বন সুন্দরবনের পরিপূর়ক হতে পারেনা।

“সুন্দরবন রাহুমুক্ত থাকুক” এই শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলো এই লেখাটির একটি ভিন্ন সংস্করণ প্রকাশ করেছে ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে।

লিখেছেনঃ আকমল হোসেন, মো. নাসের, আসাদ উল্লাহ খান, গীতি আরা নাসরীন, নাসিম আখতার হোসাইন, আবদুল্লাহ হারুণ চৌধুরী, বীণা ডি কস্টা, জোবাইদা নাসরীন, সাদাফ-এ-নূর, ওমর তারেক চৌধুরী, মাহমুদুল সুমন, সামিনা লুৎফা নিত্রা, মাহা মির্জা, ফাহমিদুল হক, মোশাহিদা সুলতানা, মওদুদ রহমান, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ।

– লেখকবৃন্দ বাংলাদেশ, অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, গবেষক, এবং উন্নয়ন কর্মী। 

লেখাটি বুয়েট এলামনাইদের ফেইসবুক গ্রুপ “Buetian” এ পোস্ট করার পর লেখাটির ওপর যেই আলোচনাগুলো হয়েছে সেগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ আলোচকদের অনুমতি সাপেক্ষে নিচে উদ্ধৃত করা হল (আশা করছি ব্লগ কর্তৃপক্ষের আপত্তি হবে না):

রিয়াজ উদ্দীন:
এখানে কয়েকটি বিষয় রয়েছে যেখানে প্রকৌশলিদের ইনপুট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে:
১) প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে যে ধরনের প্রযুক্তির প্রস্তাব রয়েছে সেটা কতটা পরিবেশ বান্ধব। যেই দূরত্বে এই প্রকল্পটি হবে বলা হচ্ছে সেটাকি আসলেই নিরাপদ? আর জ্বলানী পরিবহন সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো কতটা বাস্তব?
২) এই ধরনের প্রকল্প একা বাংলাদেশের পক্ষে নেয়া কি অসম্ভব? প্রযুক্তিগত দিক থেকে?
৩) ভারত এই প্রকল্প তাদের দেশের ভেতের না নিয়ে বাংলাদেশে কেন নিল সেটার যৌক্তিকতা সম্পর্কে কি কারো জানা আছে?
বিশেষ পরে পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং পানিসম্পদ প্রকৌশলিদের এই বিষয়ে কি বলার আছে সেটা দেশের মানুষের জানা দরকার।

Amir Hasib
As a chemical engineer I can say the soot formed from combustion chamber will be directly released to surrounding environment without desulfurisation of flue gas that will cause acid rain to hamper plant growth and destroying mangroves by stomata blockage. Instead authority may transform the thermal power plant to gas generated power plant or moving the power plant to distant places like Chittagong Hill tracts to ease environmental damage to sunderban.

রিয়াজ উদ্দীন
সম্ভবত এখানে কাচামালের প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে রামপালকে বেছে নেয়া হয়েছে। কাচামাল এবং উৎপাদিত বিদ্যুর পরিবহনের বিষয়ও বিবেচনায় আসবে অনুমান করা যায়। সেই দিক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম কতটা ভাল সাইট হবে সেটা তারা ভাল বলতে পারবেন যারা আরো বিশদ ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য জানেন।

Amir Hasib
bangladesh will import coal from outside at higher cost whereas the same power plant can be set up with gas extracted from hill tracts producing electricity at lower cost.

Riaz Uddin
That could be a possibility. The question here is we, the citizen of the country are quite in the dark as to why the project is taken in the first place? What were the other alternatives? In terms of fuel for the power plant, source, location, transportation cost etc. Even if some analysis is done it is important for the tax payers to be sure that their money is spent in the best way.

Shuvo Shaha
ই আই এ রিপোর্টের বিভিন্ন জায়গায় বারবার করে একটি যুক্তির উপর জোর দেয়া হয়েছে, সেটা হল প্রকল্প যত কাছেই হোক বাতাস যদি সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত না হয় তবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বারা (অন্তত ধোঁয়া থেকে) সুন্দরবনের আক্রান্ত হবার কোন সম্ভবনাই থাকে না। সেখানকার বাতাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখিয়েছেন ওই অঞ্চলে সারা বছর বাতাস উত্তর থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এসময়ে বাতাস প্রবাহিত হয় “দক্ষিণ থকে দক্ষিণ-পূর্ব ” দিকে। আর যেহেতু সুন্দরবন রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গত ধোঁয়া দ্বারা সুন্দরবনের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু বাস্তবতা একদমই ভিন্ন। দক্ষিণে তো বটেই, world heritage site এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা সহ সুন্দরবনের বড় একটা অংশই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। মানচিত্রটা দেখুন- এটা ই আই এ রিপোর্টেরই ৪(চার) নাম্বার পৃষ্ঠা থেকে নেয়া ।

ছবির লিঙ্কঃ http://wp.me/a39aJM-cz [ফেইসবুক থেকে নেয়া]

Aminul Islam Emon

আমি খুব সাধারণ দুটো প্রশ্ন রাখছি? ১, কয়লা বিদ্যুৎ ছাড়া আমাদের চলবে কিনা? ২, রামপালের বিকল্প কোন জায়গা হতে পারে? ( Utopian নয়; বাস্তব সম্মত উত্তর চাচ্ছি।)
ধোয়া যদি সুন্দর বনের ক্ষতি না করে, তাহলে লোকালয়ের ক্ষতি করবে। মানুষের জীবন কি হরিনের চেয়ে কম important??

Shuvo Shaha
সুন্দরবনের ক্ষতি মানে কি শুধু পশু পাখি বনের ক্ষতি ? একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন লোকালয়ের জন্য বায়ুর যে standard maintain করতে হয়, বনাঞ্চলের জন্যে সেটা আরও বেশী maintain করতে হয় সেটা বাংলাদেশের আইনেই বলুন আর আন্তর্জাতিক আইনেই বলুন। এর মানে এটা নয় যে মানুষের জীবনের দাম বাঘ হরিণের চেয়ে কম, এটা এ কারণে করা হয় মানুষের বসবাসের উপযোহী পরিবেশ বজায় রাখতে বন যে ভূমিকা রাখে তা কৃত্রিমভাবে মানুষের পক্ষে সম্ভব না, এজন্যেই ইটের ভাটার অনুমতি লোকালয়ে দিলেও বনের ভিতর দেয়া হয় না। একটা দেশের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয় , যেটা আমাদের আছে ৯ ভাগ । তাছাড়া দক্ষিণের উপকূলের মানুষকে সুন্দরবন সরাসরি সিডর আইলা থেকে বাঁচায়।

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়া আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হয়তো বাস্তবসম্মত হবে না, তবে আমাদের উচিৎ হবে এর উৎপাদন ন্যূনতম রাখা,ন্যূনতম পরিবেশের ক্ষতি নিশ্চিত করা এবং বিকল্প না পাওয়া সাপেক্ষে চালু রাখার নীতি গ্রহণ করা।

আর লাউয়াছরা ছাড়া অন্য কোন সম্ভাব্য জায়গা নিয়ে যেহেতু আর কোন সার্ভে হয়নি সুতরাং আমি হ্যাঁ না যেটাই বলি উত্তরটা ইউটোপিয়ানই হবে। আর আমার জানামতে সরকারের বাইরে আর কোন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী এই প্রকল্পের সমর্থনে বক্তব্য রাখেননি। এমনকি বন সংরক্ষক ও এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন , এটা পড়ে দেখুন।

লিঙ্ক: http://wp.me/a39aJM-cA [মন্তব্যকারীর ফেসবুক থেকে কপি নেয়া]

কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তো সারা বিশ্বেই আছে, এমন কোন উদাহরণ দিন তো যেখানে বনাঞ্চলের কাছে এই দূরত্বের মধ্যে ১০০০ মেগাওয়াটের চেয়েও বড় কয়লাবিদ্যতকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে।

Aminul Islam Emon
উদাহরন দিচ্ছি, বন বাঁচিয়ে মানুষ মারছে…… (আপনি নিশ্চয় তেমনটা চান না) আমি বন ধ্বংসের পক্ষে নই। কিন্তু মানুষ মেরে বন রক্ষার চিন্তা করাটা কেমন যেন। Health Impacts & Coal Plants: There’s no shortage of data to show that individuals living near a coal plant are at higher risk for health problems than those who do not live near a plant. In Delaware, years after residents requested a study, the Delaware Division of Public Health confirmed a cancer cluster in the six zipcode area surrounding NRG Energy Inc.’s Indian River coal plant. The study showed a cancer rate 17 percent higher than the national average.

In Chicago, where two aging coal plants sit in the majority-Latino neighborhood of Little Village, residents have reported respiratory problems for years. The Fisk and Crawford plants in Chicago have not upgraded their pollution control equipment, and instead have been exempted from federal pollution control standards under the Clean Air Act. Now the Clean Air Task Force attributes close to 350 deaths annually to the two outdated plants.

And near Longview Texas, the Martin Lake coal plant is responsible for 13 percent of all industrial air pollution in the state, contributing to Dallas-Fort Worth’s high ozone levels and non-attainment status.

Similar health problems plague every community downwind of a smokestack. Given that coal plants contribute 67 percent of sulfur dioxide (SO2), 23 percent of nitrogen oxides (NOx), and 34 percent of all mercury emissions in the nation, it is not surprising to notice increased rates of asthma, cardiovascular disease, and pre-mature and low birth-weight births in these communities. Emissions tests at coal plants have revealed 67 different air toxics. Fifty five of these toxics are neurotoxins or developmental toxins. Twenty-four are known, probable, or possible carcinogens. The Clean Air Task Force’s updated “The Toll From Coal report (2010) estimates that particulate pollution from existing coal plants would cause 13,200 deaths in 2010. The analysis found that the fleet of coal plants would also emit pollution resulting in more than 20,000 heart attacks, 9,700 hospitalizations, and more than 200,000 asthma attacks.

http://www.energyjustice.net/coal

Riaz Uddin আপনারা আলোচনা করুন– আপনাদের আপত্তি না হলে উপরের আলোচনা থেকে নির্ধারিত অংশ কপি করে মূল পোস্টে মন্তব্য আকারে পেস্ট করতে চাই, যাতে সবাই দেখতে পারে।

Shuvo Shaha দিতে পারেন আমার আপত্তি নেই , বিশেষ করে বন মন্ত্রণালয়ের আপত্তি জানানো চিঠিটা অন্যদের জানানোর অনুরোধ করব @ রিয়াজ উদ্দিন

আপনি আপনার আলোচনায় বনের অস্তিত্ব বনাম মানুষের অস্তিত্ব এভাবে তুলে ধরছেন , আর আমি বলতে চাইছি মানুষের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে সে প্রকল্প হাতে না নেয়াই উচিৎ ,নিতান্তই বাধ্য হলে বিরান ভূমি, চরাঞ্চল এ বর্জ্য শোধনের যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সেখানে তা বাস্তবায়ন করা উচিৎ ,পরিত্যক্ত এলাকা যাদের অনেক তাদের জন্য কয়লা নির্ভর নীতি বেশী প্রযোজ্য, আমাদের তেল গ্যাস বায়ু ও সৌর শক্তির দিকেই বেশী মনোযোগ দেয়া উচিৎ , কিন্তু এর বিকল্প কখনোই এমন হতে পারে না যে সেটা বনের কাছে বাস্তবায়ন করতে হবে , কারণ মানুষকে বাঁচাতে বনের ক্ষতি করলে তা আমাদের জন্যে বুমেরাং হবে,এদেশের মানুষের জন্যে সুন্দরবনের যে গুরুত্ব সেটাকে কোনা ভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই , সুন্দরবনের বলা হয় বাংলাদেশের ফুসফুস , ফুসফুসে বিষ প্রবেশ করালে তার প্রভাব শুধু ফুসফুসে না গোটা শরীরে পড়তে বাধ্য।

Aminul Islam Emon
ভাই, প্রথমত কয়লা বিদ্যুৎ নিতে আমরা ‘নিতান্তই বাধ্য’
দ্বিতীয়ত, এ জিনিশ মানুষের জন্য আরো বেশী মাত্রায় ক্ষতিকর
তৃতীয়ত, এদেশ, প্রিথিবীর সবচেয়ে বেশী ঘনবসতি পূর্ণ। কোথাও আর জায়গা নাই। এবং, তেল গ্যাস বায়ু ও সৌর শক্তি কোনটি ই বিকল্প নয়। তেল ও ভয়াবহ ক্ষতিকর, গ্যাস নাই। বায়ু নাই, সৌর অতি মাত্রায় এক্সপেন্সিভ।

Shuvo Shaha
কেন নিতান্তই বাধ্য সেটা একটু ব্যাখ্যা করুন , তেল গ্যাস সৌর বিদ্যুৎ হলে কি সমস্যা ? তেলের ক্ষতি কয়লার বিবেচনায় নগণ্য , সরকার এই বছর একটা তেল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে খরচ ইউনিট প্রতি ২ টাকার মত, আর রামপালে পড়বে সাড়ে আট টাকার মত ,
বনের ক্ষতি হলে যে মানুষের ক্ষতি হয়, এইটা আপনার কাছে কেন গুরুত্ব পাচ্ছে না সেটা আমার বোধগম্য নয়।

আপনি যে লিঙ্কটা দিলেন সেখানেই লাস্ট প্যারাটা হল “Coal Drives Climate Change and Ecological Destruction” সেটা আমরা কিভাবে সামাল দেব ? (utopian না বাস্তব সমাধান), আইলা সিডরে উপকুলের মানুষের কি হবে ? বঙ্গোপসাগরের মাছের যোগান কিভাবে ঠিক রাখব ?

Aminul Islam Emon Shuvo
তেলের ক্ষতি কয়লার বিবেচনায় নগণ্য , সরকার এই বছর একটা তেল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে খরচ ইউনিট প্রতি ২ টাকার মত এই তথ্য ঠিক নয়। প্রথমতঃ তেল ও পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর।
Aminul Islam Emon’s photo.

দ্বিতীয়তঃ তেল বিদ্যুৎ অনেক বেশী ব্যয়বহুল বলেই এটা ব্যাবহার করা উন্নত বিসশের জন্যও অচিন্তনীয়। নিচে বুয়েট শিক্ষকগনের একটা পেপারের স্ক্রিন শট দিচ্ছি।

http://buet.ac.bd/me/icme2013/icme2001/cdfiles/Papers/Energy/21.%20E-33%20Final%20%28113-117%29.pdf

কয়লা সব চেয়ে ক্ষতিকর, সেটা তো সবাই জানে। তবে এখনো আমাদের কাছে, কয়ালার বিকল্প আমি দেখছি না। যারা কয়লা বিদ্যুতের বিপক্ষে তাদের কাছে আমি জানতে চাইছি, বিকল্প কি?? আমি নিজে বিদ্যুৎ বিষয় এ তেমন কিছু জানি না। জানার জন্যই প্রতিবাদী কণ্ঠ যারা আছেন তাদের দুয়ারে দুয়ারে জিজ্ঞেস করছি । কিন্তু দেখলাম, সবার কাছে সুন্দরবন বিষয়ক নানা গ্যান আছে। বিকল্প বিষয়ক কোন চিন্তাই নাই। তাই এখানেও জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখি কি হয়।

Shuvo Shaha
আপনার দেয়া চিত্র ও তো আমার কথাই বলছে co, so2 , particles, mercury এগুলোর পরিমাণ দেখুন তেলের তুলনায় অনেক অনেক বেশী, co2 আর no2 এর পরিমাও যথেষ্ট কম, এখানে দেখা যাচ্ছ তেলে শুধু no2 এর পরিমাণটা আশঙ্কার কারণ , কয়লার মূল ক্ষতি কিন্তু particles বা কার্বন কণা , ভারী ধাতু যেটা তেলে নগণ্য ।
আর প্রকৃত বিকল্প ভাবলে আমাদেরকে একসময় সৌর বিদ্যুতের দিকেই ঝুঁকতে হবে । আপনার দেয়া লিঙ্কের conclusion পারত দেখেন , তিন নাম্বার পয়েন্টে বলা হয়েছে

“In all the projection periods, in addition to the limited use of the small type diesel plants, gas
turbine plants figure prominently during the peak period. Since a considerable amount of additional capacity must be retained in the system at any time to ensure security of supply, gas tubine plants become the obvious choice because of their low capital and high availability. ”

Aminul Islam Emon
আমি বোধ হয় আমার পয়েন্ট টা বোঝাতে পারছি না। কয়লার ক্ষতি নিয়ে সারা পৃথিবীতে দ্বিমত নাই। সে বিষয়ে কোন আলোচনাও দরকার দেখি না। ক্ষতিকর, হলেও সব কিছু ছাড়া যায় না। গ্যাস যে ক্লিন, সেটা কে না জানে? কিন্তু আমাদের গ্যাস তো শেষ হয়ে আসছে। তাই বিকল্প জানতে চাইছি।

Shuvo Shaha
খুঁজে দেখলাম নতুনটা গ্যাস ভিত্তি ছিল , যাই হোক একসময় তো আমাদের কয়লাও শেষ হবে , আর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র করা যাবে না সে তো আমি বলি নাই, তবে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হবে , সেটা আপনি আমি পারব না সরকারকেই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে খুঁজতে হবে । সমুদ্র বক্ষের গ্যাস কাজে লাগানো ভাল বিকল্প ।
আর তেলের যে খরচ সেটা ফার্নেস তেলে ৮ টাকা আর ডিজেলে ১৪ টাকা ইউনিট প্রতি , তাও ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, নিজস্ব কেন্দ্রে সেটা আরও কমে আসবে , আর এমনিতেও ফার্নেস তেলে খরচ প্রস্তাবিত রামপাল থেকে কম, যার খরচ ইউনিট প্রতি ৮-৮.৫০ টাকা ।

Aminul Islam Emon

তেলের যে খরচ দেখাচ্ছ সেটার মধ্যে সরকারের ভর্তুকি আছে। আর কয়লার খরচ এর চেয়ে অনেক কম হবার কথা। রামপালে ৮ টাকা হলে, ধরে নিতে হবে চরম অদক্ষ কোন উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে! গ্যাসের উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকি ভিত্তিক। যা হোক বিকল্প পাওয়া গেলে তো ভালই। না হলে আর কি করা। কয়লা দিয়েই দাঁত মাজতে হবে।

খুব যুক্তিপূর্ণ এবং তথ্যবহুল একটি লেখা।
সুন্দরবন আমাদের গর্ব। আমরা বুক ফুলিয়ে বাইরের দেশে বলতে পারি যে আমাদের দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনটি অবস্থিত। এই সুন্দরবনকে আমরা এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার সরকার রাখেন না। যেকোন মূল্যে সুন্দরবনকে রক্ষা করতেই হবে।

3 Comments

Leave a Reply