রামপালের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের EIA এর উদ্দেশ্য কী? –একটি প্রাথমিক পর্যালোচনা

Spread the love

[Navigate to the end of the note for an English abstract]

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ-এর প্রাপ্যতা বাড়ানোর গুরুত্ব সবাই বুঝতে পারছেন। তবে আলোচিত তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান বিবেচনা করলে সুন্দরবন সম্পর্কে না ভেবে পারা যায়না। সুন্দরবনের গুরুত্ব কেবল মাত্র বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষনের জন্যে নয়, খোদ এই দেশের অস্তিত্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভূপ্রাকৃতিক দিক থেকে পলিবাহিত বাংলাদেশের ভূমিরেখার সাথে পৃথিবীর সমুদ্ররেখার যে টানাপোড়েন তার বোঝাপরাটি হয় এই সুন্দরবনের মধ্যস্ততায়। এই বনের অস্তিত্বই ঠিক করে দিচ্ছে বাংলাদেশের সমুদ্রের তলায় তলিয়ে যাবে কি না, অথবা সেখান থেকে উঠে আসা দুর্যোগের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে কি না। তার সাথে জীববৈচিত্রের প্রসঙ্গতো আছেই। রামপালে প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে চলমান আলোচনায় এই লেখাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে এই প্রকল্পটি নিয়ে পরিচালিত EIA-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকের ওপর আলোকপাত করা।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা সুন্দরবন অঞ্চলের ছবি (উৎস্যঃ উইকিপিডিয়া)
স্যাটেলাইট থেকে তোলা সুন্দরবন ও চারপাশের অঞ্চলের ছবি (উৎস্যঃ উইকিপিডিয়া)

এই বিশ্লেষণটির কেন দরকার হল? প্রথমত, উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা প্রক্রিয়ার হাতিয়ার (instrument) হিসাবে EIA –এর যে মূলনীতি এবং উদ্দেশ্য সেটা রামপাল প্রকল্পের EIA এর প্রক্রিয়ায় কতটা প্রতিফলিত হয়েছে সেটার মূল্যায়ন হওয়া দরকার। কেবল মাত্র রামপাল প্রকল্প নয়, সামগ্রিক ভাবে EIA –এর যৌক্তিকতা সম্পর্কে এই বিশ্লেষণ থেকে আমরা একটা সাধারন ধারনা পাবার চেষ্টা করব। এজন্য রেফারেন্স হিসাবে কাজে লাগবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত EIA প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদন। আমরা দেখব EIA প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায়ে সংঘটিত হল এবং সে অনুসারে অন্যান্য ধাপগুলোর সামগ্রিক বিবেচনায় তা আকাঙ্ক্ষা পুরণ করতে পারল কি না? দ্বিতীয়ত, EIA এর মূলনীতি বিবেচনা করলে আলোচ্য EIA প্রতিবেদনের গঠন ও উপস্থাপনা দেখেও বোঝা যাবে EIA প্রতিবেদনটি কাংখিত উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে কি না?

EIA- কী, কেন, কোন পর্যায়ে?

Environmental Impact Assessment (EIA) কেন করা হবে সেটা বোঝার জন্য আমরা প্রথম EIA কী এই সম্পর্কে International Association of Impact Assessment এর প্রদত্ত সংজ্ঞাটি একবার দেখে নিই: “The process of identifying, predicting, evaluating and mitigating the biophysical, social, and other relevant effects of development proposals prior to major decisions being taken and commitments made” [১] তুলনার সুবিধার জন্য EIA এর গুরুত্বপূর্ন একটি পাঠ্যবইয়ের সংজ্ঞাও আমলে নেয়া যাক “EIA can be described as a process for identifying the likely consequences for the biogeophysical environment and for man’s health and welfare of implementing particular activities and for conveying this information, at a stage when it can materially affect their decision, to those responsible for sanctioning the proposals.” [২] আর EIA – প্রক্রিয়াটি কতটা বিজ্ঞান সে প্রসঙ্গে টেক্সবই কী বলে? “EIA is viewed as both science and art, reflecting the concern both with the technical aspects of appraisal and the effects of EIA on the decision-making process.” [২] কাজেই একটি প্রকল্প গ্রহন করার কোন পর্যায়ে এবং কী উদ্দেশ্য EIA করা হচ্ছে তার ওপর এই পুরো এক্সারসাইজে উপোযোগিতা অনেকাংশে নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত গ্রহনে, বিশেষ করে ‘প্রকল্প নেয়া হবে কি হবে না’, এই সিদ্ধান্তে যদি EIA-এর প্রভাব না থাকে তাহলে কেন এই আয়োজন?

যেহেতু বারবার IEE (Initial Environmental Examination) এর কথা আসছে, কাজেই এর প্রাসঙ্গিকতাটাও উল্লেখ করে রাখা প্রয়োজন। কোন প্রকল্পের দরুন পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব পড়তে পারে সেটা সম্পর্কে কিছুটা ধারনা আগে থেকেই করা যায় প্রকল্পের ধরন এবং প্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা থেকে। যেমন কোথাও কালভার্ট নির্মান প্রকল্প নেয়া হলে আর কয়লার পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরির প্রকল্প নেয়া হলে উভয় ক্ষেত্রে যে একই মাত্রার পরিবেশ ঝুঁকির সৃষ্টি হবেনা সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। ফলে সব প্রকল্পের জন্যে পূর্ণমাত্রার (Full Scale) EIA করার প্রয়োজন হয় না। কাজেই EIA এর মত একটি ব্যায়বহুল ধাপের আদৌ দরকার আছে কিনা, নাকি আগেই প্রকল্পটিকে বাদ দেয়া বা গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া যাবে সেটা বোঝার জন্যে IEE করে নেয়া হয়। রামপাল প্রকল্পটিতে IEE এর যৌক্তিকতা হচ্ছে IEE পর্যায়েই প্রকল্পটি বাদ পড়বে কিনা সেটা নির্ধারন করা। IEE উতরে গেলে প্রকল্প গ্রহনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া যেত যদি এটা কম ঝুঁকির প্রকল্প হত। সেজন্যই আইনগত ভাবে এটাকে রেড ক্যাটাগরীর প্রকল্প বলা হচ্ছে। কাজেই IEE কে EIA এর বিকল্প ভাবাটা এই ক্ষেত্রে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। রেড ক্যাটাগরীর প্রকল্প নেবার ক্ষেত্রে Environmental Feasibility –এর মূল্যায়নের যেই দাবি সেটা IEE পুরণ করতে পারে না। কাজেই প্রকল্প নেয়া হবে কিনা, নিলে কোথায় নেয়া হবে, নেয়া হলে তার প্রভাব কী হবে, সেই প্রভাব কীভাবে হ্রাস করে গ্রহনযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনা যাবে এই সব প্রশ্নের উত্তর আমরা পাব EIA এর মাধ্যমে। কিন্তু “প্রকল্প নেয়া হবে” এরকম সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া হলে তাহবে EIA এর মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

রামপাল প্রকল্পের EIA করার তাৎপর্য কী? EIA সম্পাদনের আগেই সাইট সিলেকশান, জমি অধিগ্রহণ ইত্যাদি পত্তনমূলক কাজগুলো করে ফেলা হয়েছে যেটা খোদ EIA প্রতিবেদন পড়লেই জানা যাচ্ছে। অথচ রেড ক্যাটাগরিতে শ্রেনীকরণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পরিবেশ (এবং প্রতিবেশ) – এর বিবেচনায় প্রকল্পটি বেশ স্পর্শকাতর এবং বিপদজনক। ফলে প্রকল্প সম্পর্কে বড় কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগেই EIA সম্পন্ন হলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এটি কাজে লাগানো যেত। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা দেখি EIA চুড়ান্ত হয়েছে ২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসে। অন্যদিকে EIA প্রতিবেদনের এপেন্ডিক্স VII থেকে আমরা জানতে পারি অধিগ্রহনের জন্য দরখাস্তের তারিখ ২৭-১২-২০১০ এবং ভূমি স্থানান্তরের তারিখ ০২-০১-২০১২। এমনকি ২০১২ সালে সাইট এস্টাব্লিশ করাও হয়ে গেছে [৪]।

কিন্তু মজার ব্যপার হচ্ছে EIA প্রতিবেদনের নানা যায়গায় ভূমি অধিগ্রহনের সময় কী ধরনের প্রক্রিয়া বা বিবেচনা আমলে আনতে হবে সে সম্পর্কেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে অবাক হবার কিছু নেই – কেননা আধুনিক EIA এর এমন নির্দেশনা দেবারই কথা। উদাহরন: ক) Power Development Board must follow the appropriate land acquisition procedure as per the GOB (পৃষ্ঠা ৩৩) খ) Housing Policy 1999 এর পর্যালোচনা করে EIA তে বলা হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে Section 5.1.3 Land; Ensure that the minimum land acquired for any development project/programme ফলেঃ Power Development Board should: Adopt the principle during land acquisition (পৃষ্ঠা ৩৯)

কিন্তু যেই কাজ এর মধ্যেই করে ফেলা হয়েছে তা কীভাবে করতে হবে সেই নির্দেশনা পরবর্তিতে তৈরি করার অর্থ কী দাঁড়ায়? এমন বৈপরীত্যের কারণ কী সেটা ভেবে দেখতে হবে।

এবারে আসি প্রকল্পের সাইট নির্বাচন প্রসঙ্গে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে যেই টার্মস অব রেফারেন্স অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেখানে বলা আছে সাইট নির্বাচনের ব্যপারে EIA-তে আধুনিক ডিসিশান সাপোর্ট টুল ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু কার্যত কী হয়েছে? যেই IEE এর কাজ হচ্ছে EIA লাগবে কিনা সেটা নির্ণয় করা সেখানে শুধুমাত্র IEE এর ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু সাইট/লোকেশান চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। অবশ্য ভূমি অধিগ্রহন যেখানে হয়েছে তাতে সাইট নির্বাচন যে হয়ে গেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই ক্ষেত্রেই EIA প্রতিবেদনে স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়। EIA তে পূর্ব নির্ধারিত সাইটের সপক্ষে যৌক্তিকতা দেয়া হয়েছে মাত্র। প্রমান হিসাবে EIA এর টার্মস অব রেফারেন্স (ToR) দেখি:

“Analysis of Suitability for Different Alternatives (this analysis shall be performed, among other approaches, in a GIS based Spatial Decision Support System (SDSS) presenting the suitability of different options for both the interventions)” (পৃষ্ঠা ৭৮– Appendix X: ToR Approved by DoE)

কাজেই EIA এর নির্দেশনার ভিত্তিতেই সাইট নির্বাচন করার কথা। কিন্তু এই EIA প্রতিবেদনেরই অন্যত্র বলা হচ্ছে:

“The project proponent has already obtained the Location/Site Clearance Certificate from DoE on 23May, 2011.” (পৃষ্ঠা ৭১)

কাজেই সাইট নির্বাচন অথবা সেই সাইটের জন্য ছাড়পত্র পেতে EIA কোন বিবেচ্য বিষয় হয়নি। যদিও DoE অনুমোদিত ToR এ বিকল্প স্থানগুলোর মধ্যে তুলনা করার জন্য প্রকল্পের স্থান নির্ধারনের জন্য অত্যাধুনিক ডিসিশান সাপোর্ট টুল ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু আগেই যদি জমি অধিগ্রহন করা হয়ে গেলো তাহলে এই টুল এবং সামগ্রিক ভাবে এই EIA সেই সিদ্ধান্ত নিতে কীভাবে সাহায্য করল? আর এত এত উচ্চমান “এনালিটিকাল টুল” – দিয়ে আদতে কি হল/হবে?

প্রকল্পের কর্মকান্ডে EIA কে কোন যায়গায় রাখা হচ্ছে? প্রকল্পের প্রস্তুতির যেই ধাপগুলো EIA প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে আলাদা করে EIA বলে কোন অংশ নেই। নিচের উদ্ধৃত ধাপগুলো দেখা যাক: (পৃষ্ঠা ৯৭)

5.8 Project activities
Pre construction phase
a) Selection of candidate sites
b) Environmental and feasibility study
c) Selection of site
d) Land acquisition & site establishment

Construction phase
a) Civil construction and technological installation work
b) Post erection check and pre commissioning test
c) Monitoring of mitigation measures for Environmental impact of the plant
d) Commissioning test
e) Reliability test run
f) Commercial operation of the plant
g) Overall project management

Post construction
a) Commercial operation of the plant
b) Monitoring of EMP
c) Proper O & M of the plant for efficient running

যেহেতু এই তালিকায় আলাদা করে IEE এবং EIA দেখানো নেই – অন্যসব আলোচনার নিরিখে আমরা বুঝতে পারি Environmental Feasibility বলতে IEE এবং EIA এই দু’টি ধাপকে একত্রেই বোঝান হচ্ছে। কিন্তু এখানে কেবল IEE করেই প্রকল্প নির্মানের ধাপের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বাস্তবায়নকারি সংস্থা। কাজেই প্রকল্পটি নেয়া হবে কি হবে না সেই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে EIA যে কোন ফ্যাক্টর নয় সেটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। যা প্রথমে উল্লেখিত সংজ্ঞার আলোকে EIA এর স্বীকৃত উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। DoE তে অনুমোদনের একটা আইনি প্রয়োজন আছে বলেই এটা তৈরি করা হয়েছে এমনটাই মনে হয় EIA এর ভাষা থেকে। নিচের উদ্ধৃতিটি লক্ষ্যনীয়: “BPDB has entrusted CEGIS the responsibility for conducting the IEE and EIA studies with the aim of obtaining Site Clearance Certificate and Environmental Clearance Certificate from DoE.”(পৃষ্ঠা: xxviii)

লক্ষ্য করা দরকার এখানে বলা হচ্ছে না EIA করা হচ্ছে পরিবেশের ওপর প্রভাব নিরূপন করার জন্য অথবা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য—বরং DoE এর অনুমোদন নেওয়াটাই এখানে উদ্দেশ্য – বলা বাহুল্য BPDB এবং DoE দুই তরফ থেকেই একই ভাবে বিষয়টিকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি যে উদ্বেগজনক সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারনভাবে প্রযুক্তিবিদদের তৈরি প্রতিবেদন এমন হবার কথা নয়।

“Without obtaining approval of EIA report by the Department of Environment, the project authority shall not be able to start the physical activity of the project and also not be able to open L/C in favor of importable machineries.” (পৃ: cxxvi, DoE approved ToR)

এখানে আইনগত বাঁধার প্রসঙ্গটি আবার উঠে আসছে – পরিবেশের ওপর প্রভাব কী হলো না হল সেটার ব্যপারে কোন উল্লেখ নেই। বলা হচ্ছে না পরিবেশের ওপর প্রকল্পটির প্রভাব নিরূপণ করা এবং সেই প্রভাব কমিয়ে আনা দরকার বলে এটা করতে হচ্ছে। এখানে “কগনিটিভ বায়াস” এর রূপটি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখা দরকার।

তাহলে এখানে কী আইনের লংঘন হচ্ছে? না কি কেবলি কারগরী সমস্যা?

দেশের সরকার যখন কোন প্রকল্প নিয়ে ভাবছে আমরা আশা করি তারা পরিবেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেবেন। কাজেই আইনের ফাক-ফোকর ব্যবহার না করে তারা বরং আইনকে ব্যবহার করবেন জনস্বার্থকে উপরে তুলে ধরতে। কিন্তু রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে কী হয়েছে একটু দেখি। EIA রিপোর্টের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা পাই: “According to the Environment Conservation Act, 1995, no industrial unit or project will be established or undertaken without obtaining an Environmental Clearance Certificate from the Department of Environment.” (পৃষ্ঠা: ১৩)

“According to the law before setting up any new project/interventions by the Government/ non government agencies/public, the proponents are required to obtain respective clearance from the Department of Environment.” (পৃষ্ঠা: ১৫)

পরিবেশ অধিদপ্তর হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা কার্যত পরিবেশকে রক্ষা করার প্রশ্নে রাষ্ট্রের ওপর আমাদের ভরসার মূলবিন্দু। সেখান থেকে EIA তৈরির যেই কাঠামো দেয়া হচ্ছে সেখানেও এটাকে কেবল মাত্র একটি আইনি বাঁধা পেরোনোর ধাপ হিসাবে দেখান হচ্ছে। সেই আলোকে লোকেশান/সাইট ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (SCC) দেবার তারিখ: ২৩-৫-২০১১ , ভূমি অধিগ্রহনের জন্য দরখাস্ত দেবার তারিখ: ২৭-১২-২০১০, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ভূমি হস্তান্তরের তারিখ: ০২-০১-২০১২

এই তথ্য অনুসারে দৃশ্যত আইনের ব্যতিক্রম হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের দাবি অনুসারে ২০১০ সালেই ভূমি অধিগ্রহন সম্পন্ন করা হয়েছে আবার বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনেও দেখা যাচ্ছে যারা জমি হারিয়েছে তারা হয়রানির শিকার হয়েছে ২০১০ সাল থেকে। [৫] ফলে এখানে সরকারের তরফ থেকে কাগজে কলমে যেটা দেখানো হয়েছে আর বাস্তবে যেটা দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে এমনটা ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বিদ্যমান আইন যে মানা হয়েছে সেটাও আমরা জোর দিয়ে বলতে পারছিনা। কাজেই উপরের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে কেবল যে কারিগরি দিক থেকে EIA এর উপযোগিতা সীমিত হয়ে গেছে তাই নয় বরং আইনও সঠিক ভাবে মানা হয়নি। কিন্তু রিপোর্টে অনেক কিছুই চেপে গিয়ে বাহ্যিক ভাবে আইন মানা হয়েছে এমন একটা ধারনা দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কেন এমন অদ্ভুত আচরন করছে? জনগনের স্বার্থের জন্য যারা কাজ করবেন তারা এমন লুকোচিরি কেন করবেন?

এবারে আমরা দেখি, কী ভাষা বা বিষয়বস্তু দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ন EIA প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে? প্রথমেই বলে রাখি প্রতিবেদনে EIA টিম এর যেই গঠন দেখানো আছে তা খুবই সন্তোষজনক। ফলে আমি আশা করেছি এই রিপোর্টে পরিবেশ বিষয়ক অংশে পেশাদারিতার ছাপ থাকবে। এখন রিপোর্টের এক্সিকিউটিভ সামরির দিকে নজর দেই। পুরো প্রতিবেদনে যেই ভঙ্গিতে প্রভাবগুলো আলোচনা করা হয়েছে তার নমুনা আমরা এখানে দেখতে পাই। [৪, পুরো উপসংহার সূত্রে তুলে ধরা হল]

দেখা যাচ্ছে এই EIA-এর এক্সিকিউটিভ সামারিতে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছে:

ক) দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি মারাত্মক ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করাটা দরকার।

খ) এখন প্রযুক্তির এত প্রভূত উন্নতি হয়েছে যে দুষনের প্রভাব দূর করাটা কোন সমস্যা হবে না।

গ) যেই অঞ্চলে প্রকল্পটি নির্মান করা হবে সেখানেও এটি বিদ্যুত-এর চাহিদা মেটাবে।

এইযে এখানে প্রকল্পকে র‍্যাশনালাইজ করা এবং জনগনের সহানুভূতি আদায়ের জন্য তিনটি বক্তব্য উপস্থাপন করা হল এটা কিন্তু EIA এর উদ্দেশ্য নয়। অন্তত প্রধান উদ্দেশ্যতো নয়ই। এটাকি আমরা EIA প্রতিবেদন থেকে আশা করি? নাকি আমরা দেখতে চাই এই প্রতিবেদন পরিবশের ওপর প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কে ধারনা দেবে? এমন নয় যে প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে কোথাও কিছু বলা হয়নি। কিন্তু প্রকল্পটি যেন নেয়া হয় সেটাকে জাস্টিফাই করাটাই এই প্রতিবেদনের কাজ, প্রতিবেদনটি পড়ে বারবার এমনটাই মনে হয়েছে। এভাবে কিন্তু EIA, যা কিনা একাধারে ‘সাইন্স’ এবং ‘আর্ট’, তা ঠিক জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে না।

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং EIA বান্ধব রীতি নীতি

সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় EIA যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য EIA সম্পাদনের প্রক্রিয়াটি হতে হবে নির্মোহ এবং তার সিদ্ধান্ত কী আসবে সেই ব্যপারেও যারা কারিগরী দিক থেকে EIA সম্পাদন করবেন তাদের চাপমুক্ত থাকতে হবে। আর যারা এই কাজটি সম্পাদন করবেন, ব্যক্তি হোন বা প্রতিষ্ঠান, তারা যেন কারিগরী দিক থেকে মানসম্পন্ন এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য প্রনোদিত হন সেটাও নিশ্চিত হতে হবে। আমরা জানছি এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে CEGIS নামের একটি কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান। CEGIS মূল্যায়নটি করার ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের সাথে স্বাধীন ভাবে তাদের গবেষনাগুলো করতে পেরেছে কি না সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। হাইপোথিটিকাল ভাবে বলল, যদি তারা পেশাগত মানদন্ড মেনে এই EIA সম্পন্ন না করে, অথবা প্রকল্পটিকে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ক্ষতিকর বা হিতকর প্রমানের চেষ্টা করে তাহলে ভবিষ্যতে আরো বেশি কনসাল্টেন্সি পাবার সম্ভাবনা কী এদের বৃদ্ধি পাবে? অথবা অন্যকোন ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট অথবা দুর্বল বিশ্লেষণের মাধ্যমে যদি তারা এই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে তাতে করে তাদের কী কোন সমস্যা হবে? আমরা দেখি এখানে এই প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পাদনের দায়িত্ব দিচ্ছে রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে এখানে নানা ধাপে BPDB এবং NTPC এর তরফ থেকে অনেক কারিগরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলির স্বার্থের সঙ্ঘাত (Conflict of Interest) বেশ গুরুতর ভাবেই উপস্থিত রয়েছে। কাজেই যদি EIA প্রতিবেদন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে মত দেয় তাহলে তাদের ক্লায়েন্ট যে খুশি হবে না সেটা নিরাপদেই ভাবা যায়। কাজেই ইচ্ছা থাকলেও এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে পেশাগত ভাবে মানোত্তীর্ন EIA তৈরি করা কঠিন বা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে যখন আমরা EIA কে একাধারে ‘সাইন্স’ এবং ‘আর্ট’ হিসাবে দেখি। বিষয়টি নিয়ে আরো বিশদাকারে আলোচনার দরকার আছে।

প্রযুক্তির জ্ঞানতত্ত্ব এবং জ্ঞানমুখি নাগরিক সমাজ

জ্ঞান কিসে হয়? বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান? যেই জ্ঞান আকাশে ওড়াবে অথবা মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যাবে? আপনার মাথার ওপর সয়ংক্রিয়ভাবে পাখা ঘোরাবে? বিজ্ঞানের দার্শনিক কার্ল পপারের উত্তর হচ্ছে, কোন কিছুকে সত্য প্রমানের চেষ্টা না করে আগে সেটাকে মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা কর। কেননা যেটাকে মিথ্যা বা ভুল প্রমানের কোন মানদন্ড নেই সেটাকে সত্য বলে প্রমান করা যায়না [৬]। রামপাল প্রকল্পের সাথে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির যোগসূত্র ঘনিষ্ট। কাজেই আমাদের বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের দিক থেকে রামপালের প্রশ্নটিতে পপারিয় চিন্তাধারা দেখা যেত, সেটা বেশ আশাপ্রদ হত। “পরিবেশের ওপর রামপাল প্রকল্পের প্রভাব কী” সেটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে – কিন্তু এটা কারো ভুলে গেলে চলবে না দেশের নাগরিকদের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিতব্য এই প্রকল্পের ব্যপারে দেশের মানুষের সম্মতি যেন জানা-বোঝা সম্মতি (informed consent) হয় সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। আর এটাকে কেবলি ‘সাইন্টিফিক’ বা ‘টেকনলজিকাল’ সমস্যা ভাবাটাও ভুল হবে। মনে রাখা দরকার, এখানে কারিগরী অর্থে ‘আপ্তবাক্য’ বলে কিছু নেই বা থাকা উচিত নয়। রামপাল প্রকল্পটি আমাদের দেশের জন্য একটি মাইলফলক। কেবল মাত্র উন্নয়ন প্রকল্প হিসাবে নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পকে আমাদের রাষ্ট্র এবং নাগরিকেরা কীভাবে নেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে নেবেন সেটার জন্য একটা শিক্ষার সুযোগ (learning phase) হিসাবে এই উদাহরনটি আমাদের সামনে এসেছে। এই ধাপটি সঠিক পরিক্রমায় আগাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী তার কিছুটা উপরের আলোচনায় আমরা দেখেছি। এগুলো দূর করতে সমাজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশে যারা নানা ক্ষেত্রে পেশাজীবি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তাদের সেবার সর্বোচ্চ উপকার যেন সমাজের কাছে পৌছে দেয়া যায় সে উদ্দেশ্য উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, রীতিনীতি, প্রনোদনা ব্যবস্থা এবং স্বাধীনতার নিশ্চিত করতে হবে। আর পেশাগত দায়বদ্ধতার এবং উত্তোরোত্তর দক্ষতার মূল্যায়নের জন্যে জবাবদিহিতার সংস্কৃতির বিকল্প নেই। এভাবে যেই উন্নয়ন হবে তা অনুকরনধর্মী পোশাকি উন্নয়ন নয়। বরং তা হবে ভেতর থেকে উঠে আসা নিজস্ব ধারার উন্নয়ন।

কৃতজ্ঞতা:

প্রথমত রামপাল প্রসঙ্গ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার ব্যপারে উৎসাহ দেবার জন্য অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা। লেখার পূর্ববর্তী সংস্করনের ওপর ওনার মন্তব্য এবং ভূমি অধিগ্রহনের সময়কাল ও সাইট ক্লিয়ারেন্স প্রসঙ্গে আইনের কোন ব্যতিক্রম হয়েছে কিনা এটা বুঝতে ওনার পরামর্শ কাজে লেগেছে। কিছু দরকারি তথ্য কল্লোল মোস্তফার ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে পাওয়া গেছে।

অক্টোবর ১৪, ২০১৩

[Summary: EIA is globally recognized as a useful instrument to mediate conflicts between economic development and environmental sustenance. However, for Bangladesh the proposed coal fired Rampal thermal power-plant is the first large scale project to draw people’s attention to such tension. This note reviews the published EIA in light with the recent debates in public media and finds that the institutional process and setting under which EIA is prepared and used, does not serve its intended purpose. EIA being an “expert’s input” in the development process only guards against any possibility of public questioning of harmful projects at the expense of public interest. While this brings into question the current development paradigm, this offers an opportunity  of significant improvement in the current development process and thus bring all parties involved under an umbrella of trust and cooperation.]

তথ্যসূত্র:

[১] সংজ্ঞাটি নেয়া হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশান ফর ইম্প্যাক্ট এসেসমেন্টের ওয়েব পেইজ থেকে। http://www.iaia.org/publicdocuments/special-publications/Principles%20of%20IA_web.pdf

[২] Wathern, P. (2002). Environmental impact assessment: theory and practice. Routledge.

[৩] এই প্রসঙ্গে নিচের লেখাটিতে টাইমটেবিল দেয়া গেছে: http://tinyurl.com/kmrcn8k; আর প্রকল্পের নানা রকম প্রস্তুতি যে সম্পন্ন হয়েছে সেটার প্রমান আমরা রিপোর্টের ভেতরেও দেখতে পাই, যেমন: (ক) (পৃষ্ঠা xxxvii) BPDB acquired 1,834 acre (742.20 ha) of land for the project purpose. …… BPDB has paid compensation money amounting BDT. 625 million from the DC office as per the Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 that may help the PAPs to recover their losses.  খ) (পৃষ্ঠা ২৬৬) The process of land acquisition has already been completed.

[৪] EIA প্রতিবেদনের এক্সিকিউটিভ সামারির উপসংহার (সম্পূর্ণ): (পৃষ্ঠা: xli-xlii)

Bangladesh is improving with lots of shortfalls like natural disasters, population pressure, lower income etc. In order to progress the country (e.g. middle income) in accord with the international growth or regional (e.g. Asia) development and improve the countrymen standard quality of life, the Government of Bangladesh extremely realize the necessity of power generation. The present electricity crisis and rising electricity demand urge installation of new power plant. GOB has taken immediate response for installing coal based thermal power plant due to reducing the pressure on the limited reserve natural gas. Under the Environment Conservation Act, 1995 the first set of rules promulgated is the Environment Conservation Rules, 1997. The Rules have provided categorization of industries where coal based thermal power plant falls into red category (Category –D). Besides, the presence of Sundarbans near to the proposed plant added especial attention to this EIA study. About 1320 MW electricity will be generated from imported coal as the coalmine of Bangladesh is yet under developing. Modern technologies with the sufficient environmental protection measures will be used for pollution abetment and mitigating the negative impacts. Numbers of measures and management plan have been distinctly instructed in this EIA study. However, the national demand on electricity generation have enormous positive feedback which will compensate the negative impacts after screening by the prescribed EMP. Apart from the potential negative impacts, this coal-based thermal power plant will try to fulfill the regional electricity demand. The proposed project will create enormous potentiality of regional economic and social development. It will offer large number of job opportunity, industrial revival of Khulna region, infrastructural revolution, revive of Mongla port, increasing social security, communication network development, cultural improvement and livelihood security in the south west region of Bangladesh. At the end, it can be justified that the potential benefits may outweigh the negative impacts if the suggested EMP and recommendations are taken care.

[৫] বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃতি: “২০১০ সালে যখন জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তখন স্থানীয়রা আন্দোলন শুরু করেছিলেন জমি রক্ষার জন্য। তাঁদের তিনটি রিট মামলা এখনো হাইকোর্টে রয়েছে।”

http://www.bbc.co.uk/bengali/news/2013/10/131006_qk_rampal_power_plant_investigation.shtml

ভূমি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত যেসব অর্জনের তালিকা দেয়া হয়েছে তার ৪৫ তম উপাদান হিসাবে উল্লেখ রয়েছে: “ বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন ০৯ নং কৈগরদাসকাঠি এবং ১০ নং সাপমারিকাটাখালী মৌজায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৮৩৪.০০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন“।  লিঙ্ক: http://www.minland.gov.bd/achievement

[৬] Popper, K. (2002). The logic of scientific discovery. Routledge.

 

About রিয়াজ উদ্দীন

রিয়াজ উদ্দীন ইলিনয় (আরবানা) বিশ্ববিদ্যালয়ে অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে পিএইচডি গবেষক। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনার ওপর স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শেষ করেন। পরবর্তিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ, উন্নয়ন সমন্বয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কাজ করেন। তার গবেষণা ও আগ্রহের বিষয়ের মধ্যে রয়েছে অঞ্চল পরিকল্পনা, আঞ্চলিক অর্থনীতি, নয়া প্রতিষ্ঠানবাদ, নগর অর্থনীতি, পরিকল্পনা তত্ত্ব এবং পরিবহন অর্থনীতি।

View all posts by রিয়াজ উদ্দীন →

One Comment on “রামপালের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের EIA এর উদ্দেশ্য কী? –একটি প্রাথমিক পর্যালোচনা”

Leave a Reply