October 27, 2026
peter th

This post has already been read 27 times!

লিখেছেন ডেভিড গিবসন

ডেভিড গিবসন ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন রিলিজিয়ন অ্যান্ড কালচার-এর পরিচালক।

সিলিকন ভ্যালিতে এখন মহাপ্রলয় বা পৃথিবীর অন্তিম কাল নিয়ে নানা মতবাদের ছড়াছড়ি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেকে আনবে মহাবিপর্যয়—সাম্প্রতিক এই আতঙ্কের মূলে রয়েছে ‘ইফেক্টিভ অল্ট্রুইজম’ (Effective Altruism বা সংক্ষেপে EA) নামের এক দর্শন। বহু বছর ধরে মূলধারার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি এটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে, কারণ ‘অ্যানথ্রপিক’ (Anthropic) থেকে শুরু করে নবনিযুক্ত এআই নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘এমইটিআর’ (METR) পর্যন্ত পুরো এআই শিল্পেই এই দর্শনের অনুসারীরা জাঁকিয়ে বসেছেন। ইএ হলো পরোপকার বা জনহিতৈষণার একটি উপযোগবাদী (utilitarian) দৃষ্টিভঙ্গি, যার মূল কথা হলো দীর্ঘতম সময় ধরে সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বোচ্চ মঙ্গল সাধন করা। আর এই মতবাদের প্রবক্তারা মনে করেন, যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হলে এআই-সৃষ্ট মহাপ্রলয় ঠেকানোই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

কিন্তু প্রযুক্তি বিশ্বের রাঘববোয়ালদের পরস্পরবিরোধী বিশ্বদৃষ্টির ভিড়ে ‘ইএ’-র একটি শক্তিশালী এবং সমানভাবে প্রলয়ংকরী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। এটি খ্রিস্টধর্মের একটি বিশেষ ধারা, যার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি হলেন পিটার থিয়েল। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ‘ইএ’ শেষ পর্যন্ত অ্যান্টিক্রাইস্টকে (Antichrist—খ্রিস্টবিরোধী বা অন্তিম কালের মহাখলনায়ক) ডেকে আনবে। এই বিষয়ে এই বিলিয়নিয়ার টেক-পুঁজিপতি নিজেকে একজন বিশেষজ্ঞ বলে মনে করেন এবং কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে থিয়েল এখন আমেরিকার সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক হয়ে উঠেছেন।

আমাদের চেনা পৃথিবীর সমাপ্তি বা কেয়ামত নিয়ে থিয়েলের বর্তমান এই ঘোরকে ধর্মতত্ত্বের ভাষায় বলা হয় ‘এসকাটোলজি’ (eschatology) বা ‘অন্তিম কাল তত্ত্ব’। তার বিশেষ মাথাব্যথার কারণ হলো ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’—পৃথিবীর এই অন্তিম সময়ের দৃশ্যপটের মূল খলনায়ক। অ্যান্টিক্রাইস্ট নিয়ে থিয়েলের এই বয়ান শুরু হয়েছিল তিন বছরের কিছু বেশি সময় আগে; প্রথমে ২০২৩ সালে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় এক বক্তৃতায়, কিন্তু এরপর ২০২৫ সাল থেকে সান ফ্রান্সিসকোতে কেবল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য আয়োজিত রুদ্ধদ্বার, ধারাবাহিক কিছু বক্তৃতায়। অতি-ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর এই প্রযুক্তি-মহারথীরা আমাদের পৃথিবীর ভবিষ্যৎকে কীভাবে দেখেন, তা জানতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এই গোপনীয়তা বেশ হতাশাজনক হলেও কৌশল হিসেবে তা দারুণ চতুর—আর পেপ্যাল (PayPal) ও প্যালান্টির (Palantir)-এর মতো তুমুল সফল প্রতিষ্ঠানের জন্মদাতার কাছ থেকে এমনটা হওয়া অবাক করার মতো কিছু নয়। গত শরতে সান ফ্রান্সিসকোর এক দর্শক-শ্রোতা দলকে থিয়েল নাকি বলেছিলেন, “আপনি যদি চান কোনো একটা বিষয় নিয়ে সবাই জানুক, তবে কাউকে ঘরের ভেতর ঢুকতে না দেওয়াটা দারুণ এক বিপণন কৌশল।”

গত মার্চে তিনি অ্যান্টিক্রাইস্ট বিষয়ে চার পর্বের আরেকটি ব্যক্তিগত বক্তৃতা সিরিজের জন্য রোমে যান। ভ্যাটিকানের দোরগোড়ায় নিজের এই কৌশল নিয়ে হাজির হলে যে ব্যাপক প্রচার পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত ছিল—এবং বাস্তবেও তাই ঘটেছে।

কয়েক মাস আগে থিয়েলের সেই বক্তৃতাগুলোর রেকর্ডিং ‘দ্য ভার্জ’-এর কাছে ফাঁস হয়। আমরা চারটি বক্তৃতার সবকটিই শুনেছি এবং সেগুলোর লিখিত রূপ পড়েছি, যা থিয়েলের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক দর্শনের একটি জানালা খুলে দেয়। তাকে এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাহক বলে মনে হয়, যিনি বিচিত্র সব বিচ্ছিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে এআই এবং সামগ্রিক ‘নিরাপত্তাবাদ’ (safetyism)-এর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন—যা তার দাবি অনুযায়ী অ্যান্টিক্রাইস্টের আগমনের পথ প্রশস্ত করে।

“শান্তি ও নিরাপত্তা”—থিয়েলের মতে যা অ্যান্টিক্রাইস্টের স্লোগান—পুরো বক্তৃতা জুড়েই তাকে বিচলিত করে রেখেছে। প্রথম বক্তৃতায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছি, এবং তার পরে কি সম্ভাব্য এক ‘অন্যায় শান্তি’র (unjust peace) দিকে যাচ্ছি, যা মূলত এক অন্যায় যুদ্ধেরই স্বাভাবিক পরিণতি:

“কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, সেটি মোটামুটি একটি ‘ন্যায়সংগত শান্তি’র মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিল। যেখানে শেষ পর্যন্ত কোনো পারমাণবিক যুদ্ধ হয়নি। এবং কোনোভাবে আমাদের পক্ষ—যাকে আমি তুলনামূলকভাবে ভালো পক্ষ বলে মনে করি—মূলত জয়ী হয়েছিল। এর ফলে নিখুঁত না হলেও মোটামুটি একটি ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সুতরাং, আমাদের যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়, তবে তা হবে একটি অন্যায় যুদ্ধ। আর যদি দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ হয়, তবে তার সমাপ্তি হতে পারে ন্যায়সংগত শান্তিতে কিংবা অন্যায় শান্তিতে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে বোঝা যায়, এগুলোর কোনোটিই পাথরে খোদাই করা অনিবার্য সত্য নয় এবং পরিস্থিতি নানা দিকেই মোড় নিতে পারে। কিন্তু আমার বারবার মনে হয়, যদি বাজি ধরতে হয়, তবে এবার আমাদের চতুর্থ সম্ভাবনাটির দিকে গড়ানোর ঝুঁকিই কি বেশি নয়? সেই চতুর্থ সম্ভাবনাটি হলো, দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে এক অন্যায় শান্তির মধ্য দিয়ে। আর এর কারণ হলো, অ্যান্টিক্রাইস্ট অবিরাম ‘আর্মাগেডন’ বা মহাপ্রলয়ংকরী যুদ্ধের কথা বলে চলেছে। আমরা সবাই ভয়ে মরছি যে আমরা না জেনেই ঘুমের ঘোরে মহাপ্রলয়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছি। আর যেহেতু আমরা জানি যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে একটি অন্যায় যুদ্ধ, তাই সেই ভয় আমাদের যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে প্রবলভাবে ঠেলে দিচ্ছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমার দুশ্চিন্তার জায়গাটি হলো, তখন শান্তির শর্ত বা খুঁটিনাটি নিয়ে খুব একটা ভাবা হয় না, ফলে এক অন্যায় শান্তি চেপে বসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, এটিই হলো অ্যান্টিক্রাইস্টের স্লোগান: ১ থেসালনীয় ৫:৩ (1 Thessalonians 5:3)। তা হলো ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’—অর্থাৎ সেই অন্যায় শান্তি। অথচ মথি ২৪:৬ (Matthew 24:6)-এর পুরো পদে যিশুখ্রিস্ট কী বলেছেন দেখুন: ‘তোমরা যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের গুজব শুনবে; দেখো, যেন বিচলিত (আতঙ্কিত) হয়ো না।’ আমরা যদি অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, তবে কি আমাদের ভাগ্যে সবসময়ই এক চরম অন্যায় শান্তি জুটবে? কিংবা তেমনই কিছু একটা।”

আমরা এখন এই বক্তৃতাগুলোর বিশ্লেষণ প্রকাশ করছি কারণ গত জুলাই মাসে রক্ষণশীল ধর্মীয় সাময়িকী ‘ফার্স্ট থিংস’ (First Things)-এ থিয়েল তার এই একই ভাবনাগুলোর একটি সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। আপনারা নিজেরাও তা পড়ে দেখতে পারেন। “দ্য পোপ অ্যান্ড দ্য অ্যান্টিক্রাইস্ট” (পোপ এবং অ্যান্টিক্রাইস্ট) শিরোনামের ওই প্রবন্ধটি থিয়েলের চিন্তাভাবনার বিশাল শূন্যস্থানগুলো পূরণ করে এবং তার ধারণাগুলো—যেমনই হোক না কেন—আমাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

মূল কথা হলো, সমস্ত দুর্বোধ্য উদ্ধৃতি আর গূঢ় ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ছেঁকে নেওয়ার পর দেখা যায়, থিয়েল—যিনি একজন প্রোটেস্ট্যান্ট হয়েও নিজেকে ‘প্রথাবিরোধী খ্রিস্টান’ (heterodox Christian) হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন—আসলে খুবই চেনা ছকের এক আমেরিকান ইভানজেলিক্যাল বিশ্বদৃষ্টিই তুলে ধরছেন, যা পুরোদস্তুর মৌলবাদীও বটে।

তাকে যতটা না একজন সুসংলগ্ন ধর্মীয় চিন্তাবিদ মনে হয়, তার চেয়ে বেশি মনে হয় চেনা ধারণাগুলোরই এক নতুন মোড়কদাতা—যিনি শখের ধর্মতাত্ত্বিক বনে যাওয়া এক প্রযুক্তি-পাগলের ভাষায় সেগুলোকে সাজিয়ে নিজের মতাদর্শ প্রচারে ব্যবহার করেন। বাইবেল থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ পোপের পোপ-পূর্ববর্তী লেখালেখি, রবার্ট হিউ বেনসনের ১৯০৭ সালের উপন্যাস ‘লর্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ কিংবা স্বল্প-পরিচিত স্কটিশ কবিতা—সবকিছুই তিনি পড়েন অ্যান্টিক্রাইস্টের আগমন সম্পর্কে নিজের (এবং কখনো কখনো চমকে দেওয়ার মতো আক্ষরিক) ব্যাখ্যার চশমা দিয়ে। (তার মতে, আদর্শগতভাবে অ্যান্টিক্রাইস্টকে যিশুর চেয়েও দ্রুত নিজের ছাপ ফেলতে হবে, যিনি ৩৩ বছর ও কয়েক মাস বয়সে মারা গিয়েছিলেন—যদিও তৃতীয় বক্তৃতায় থিয়েল স্বীকার করেন যে, “আমাদের এই বৃদ্ধতন্ত্রের যুগে সম্ভবত ৬৬-ই হলো নতুন ৩৩”)। ধর্মীয় নানা ধারণার এই জগাখিচুড়ি এবং সন্দেহজনক সব ব্যাখ্যার ওপর তার এমন কর্তৃত্বপূর্ণ দাবি শুনলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন এক স্নাতক-পড়ুয়া তরুণের মতো শোনায়, যে সবে দর্শনের প্রথম ক্লাসটি করেছে আর তারপর গাঁজার কলকেতে কয়েকটা বেশি টান দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার এই অন্তিম কাল তত্ত্বের লক্ষ্য অন্য সব প্রলয়-দার্শনিকের মতোই এক: পৃথিবীকে ‘মুক্তিপ্রাপ্ত’ (saved) এবং ‘অভিশপ্ত’ (damned)—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা। আর বলাই বাহুল্য, থিয়েল নিজে পুণ্যবানদেরই একজন।

এখানে উল্লেখ্য যে, থিয়েল উঠে আসছেন আমেরিকার সাম্প্রতিকতম এবং সম্ভবত সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এক ধর্মীয় পুনর্জাগরণের কেন্দ্রবিন্দু থেকে—যা মূলত সিলিকন ভ্যালির অভিজাতদের মধ্যে দানা বেঁধেছে। যেমন ‘অ্যাক্টস ১৭ কালেক্টিভ’ (ACTS 17 Collective), যা বাইবেলের ‘অ্যাক্টস অব দ্য অ্যাপোসলস’-এ গ্রিক পৌত্তলিকদের কাছে সেন্ট পলের ধর্মপ্রচারের ঘটনাকে নির্দেশ করে এবং একই সাথে এটি “Acknowledging Christ in Technology and Society” (প্রযুক্তি ও সমাজে খ্রিস্টকে স্বীকার করা)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। কিন্তু ওই আন্দোলনটি যিশুর মাধ্যমে আত্মোন্নয়নের এক ইতিবাচক ও প্রফুল্ল বার্তা তুলে ধরে, যা সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার পরিপাটি ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা সহজেই গ্রহণ করে। সিলিকন ভ্যালির প্রেক্ষাপটে থিয়েলের বিশ্বদৃষ্টি বেশ অস্বাভাবিক, আর একজন সমকামী জার্মান বিলিয়নিয়ারের কাছ থেকে তো তা বিশেষভাবেই অপ্রত্যাশিত; অথচ আমেরিকার প্রলয়বাদী (apocalypticism) ঐতিহ্যের সাথে তিনি একদম খাপে খাপ মিলে যান।

থিয়েলের ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল চাবিকাঠিটি পাওয়া যায় তার সাম্প্রতিক ‘ফার্স্ট থিংস’ প্রবন্ধের একেবারে শুরুতে, আর তা হলো অ্যান্টিক্রাইস্টকে ঘিরে তার ঘোর এবং ভীতি। প্রথাগতভাবে অ্যান্টিক্রাইস্টকে—থিয়েল নিজেই অন্যত্র যেমনটা বলেছেন—“অন্তিম কালে আবির্ভূত হওয়া এক দুষ্ট রাজা, স্বৈরশাসক বা মেসিয়াহ-বিরোধী (anti-messiah)” হিসেবে গণ্য করা হয়। কথাটি সত্য, তবে থিয়েল বলেছেন যে অ্যান্টিক্রাইস্ট নিয়ে তার আগ্রহের মূল কারণ হলো “অন্য কেউ এটি নিয়ে কথা বলছে না।” আমেরিকান খ্রিস্টধর্মের সাথে সামান্যতম পরিচয় থাকা যে কারও কাছেই এই দাবিটি এক নতুন খবর বটে!

বস্তুত, অ্যান্টিক্রাইস্ট এবং অন্তিম কাল তত্ত্ব (eschatology) তর্কাতীতভাবেই আমেরিকান খ্রিস্টধর্মের মূল চালিকাশক্তি, এবং এই ঝোঁকটিই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যান্য গির্জা ও সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে রাখে। আমেরিকায় বাইবেলের শিক্ষাগুলো যেন ওল্ড টেস্টামেন্টের শুরুর ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আজ্ঞা) থেকে এক লাফে নিউ টেস্টামেন্টের শেষের ‘বুক অব রেভেলেশন’ (প্রত্যাদেশ বা কেয়ামতের বিবরণ)-এ চলে যায়। মাঝখানের সুসমাচার (Gospels), যিশুর পর্বতে প্রদত্ত অষ্টকল্যাণ বাণী (Beatitudes)—অর্থাৎ যা কিছুই যিশুখ্রিস্টের মূল শিক্ষা তুলে ধরে, তা সেখানে নিছক এক পাদটীকা হয়ে থাকে।

পৃথিবীর সমাপ্তি বা কেয়ামত নিয়ে এই প্রবল উৎসাহের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একের পর এক ঘটে যাওয়া ব্যাপক ধর্মীয় পুনর্জাগরণ বা ‘গ্রেট অ্যাওয়াকেনিংস’ (Great Awakenings), যা ঔপনিবেশিক যুগ থেকে শুরু করে আঠারো শতক এবং কারও কারও মতে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আমেরিকার ধর্মীয় ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। এই পুনর্জাগরণগুলোতে কেবল ব্যক্তিগত ধর্মান্তরের ওপরই জোর দেওয়া হয়নি, বরং নিউ টেস্টামেন্টে বর্ণিত ‘অন্তিম কাল’ সম্পর্কেও ভয়াবহ সব সতর্কবার্তা দেওয়া হতো—যখন খ্রিস্ট ফিরে আসবেন বিশ্বাসীদের স্বর্গে তুলে নিতে, আর যারা পৃথিবীতে পড়ে থাকবে তাদের একাই মুখোমুখি হতে হবে নানা মহাদুর্ভোগের।

বিশেষ করে আমেরিকান খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে, অনন্ত নরকভোগ থেকে আত্মাকে বাঁচানোর এই তাড়না ক্রমেই প্রবলতর হয়েছে এই ভয়ে যে, যিশুর দ্বিতীয় আগমন (Second Coming) আসন্ন, তাই এখনই অনুতপ্ত হওয়া ভালো। শুরুর দিকের সেই তাঁবু খাটিয়ে ধর্মপ্রচার থেকে শুরু করে চটকদার টেলিভ্যানজেলিস্ট (টেলিভিশন ধর্মপ্রচারক) এবং পরবর্তীতে ১৯৯০-এর দশকে তুমুল জনপ্রিয় হওয়া ‘লেফট বিহাইন্ড’ (Left Behind) উপন্যাস সিরিজের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন প্রলয়বাদী আন্দোলন, সম্প্রদায় ও কাল্টের বিস্তার অব্যাহত থাকে। ভবিষ্যদ্বক্তারা হিব্রু বাইবেলের ‘বুক অব ড্যানিয়েল’ ও অন্যান্য নবীদের বাণীর টুকরো অংশের সাথে ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর পরাবাস্তব ও অদ্ভুত সব দৃশ্যকল্পের জোড়াতালি দেন। আর এভাবেই একসময়ের গোলমেলে সব অন্তিম কালীন দৃশ্যপট শেষ পর্যন্ত একটি সর্বজনগ্রাহ্য কালানুক্রমে রূপ নেয়: ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, যিশুর দ্বিতীয় আগমন তথা প্রকৃত বিশ্বাসীদের সশরীরে স্বর্গারোহণ (Rapture), এরপর অ্যান্টিক্রাইস্টের উত্থান এবং পৃথিবীতে সাত বছরব্যাপী মহাদুর্ভোগ (Great Tribulation), যার সমাপ্তি ঘটবে ভালো ও মন্দের চূড়ান্ত যুদ্ধ এবং হাজার বছরের শান্তির মধ্য দিয়ে।

বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে পিটার থিয়েলের মন্তব্য

  • বিল গেটস: “আমার এক বন্ধু আমাকে বলছিল, সান ফ্রান্সিসকোর ওই মানুষগুলোকে বিল গেটসই যে অ্যান্টিক্রাইস্ট, তা বলার সুযোগটা আমার হাতছাড়া করা উচিত নয়। আমি মানছি যে তিনি নিঃসন্দেহে ‘ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’ ধাঁচের চরিত্র। জনসমক্ষে তিনি পাড়ার ভালোমানুষ মিস্টার রজার্সের মতো—কিন্তু বছরখানেক আগে আমি তার মিস্টার হাইড রূপটা দেখেছি, যেখানে তিনি ট্যুরেটস সিনড্রোমের রোগীর মতো অনর্গল গালিগালাজ করে যাচ্ছিলেন, কী ঘটছে তা প্রায় বোঝাই যাচ্ছিল না। তবে হ্যাঁ, অনেক মানুষই আছেন যারা অ্যান্টিক্রাইস্ট হতে চান। তারা একধরনের শান্তি ও নিরাপত্তা চান। তিনি [গেটস] অবশ্যই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার চান। এর জন্য তিনি নিজের আত্মাও বিক্রি করে দিতে পারেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
  • এলিযার ইউডকাউস্কি (Eliezer Yudkowsky): “আরেকটি বই আছে—আগামীকাল বেরোবে বলে আমি এখনো হার্ডকপি পাইনি, তবে আমরা একরকম ডাউনলোড করে নিয়েছি—যা এই তত্ত্বের সাথে আরও ভালোভাবে মিলে যায়। বইটি ইস্ট বে-র যুক্তিবাদী এলিযার ইউডকাউস্কির লেখা। একসময় এই মানুষগুলোর সাথে আমি যে নানাভাবে যুক্ত ছিলাম এবং তারা সবাই যেভাবে বিকারগ্রস্ত ও উন্মাদ হয়ে গেছে, তা ভেবে আমি লজ্জিত। শুরুটা হয়েছিল যুগান্তকারী প্রযুক্তি নিয়ে ফ্রান্সিস বেকনীয় এক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে: আমরা এটি তৈরি করব, এটি পৃথিবীকে বদলে দেবে। আর তারপর কোনোভাবে এর সমাপ্তি ঘটল চরম হতাশাবাদী (blackpilled) এক মানসিকতায়, যা সম্ভবত গ্রেটার চেয়েও বেশি বিষণ্ণ এবং বেশি প্রযুক্তি-বিদ্বেষী (Luddite)।”
  • গ্রেটা থুনবার্গ: “আমার মনে হয়, এসব খবর সবসময় এমনভাবে প্রকাশ করা হয় যেন আমি গ্রেটাকে অ্যান্টিক্রাইস্ট বলে ঘোষণা করেছি। আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, গ্রেটা অ্যান্টিক্রাইস্ট নন; মানে, তিনি হয়তো অ্যান্টিক্রাইস্টের একটি ধরন বা ছায়া হতে পারেন, যা প্রলুব্ধ করার মতো, কিন্তু আমি তাকে এতটাও তোষামোদ করতে চাই না।”
  • মার্ক অ্যান্ড্রিসেন: “প্রসঙ্গত, অ্যান্টিক্রাইস্ট কিন্তু অ্যান্ড্রিসেন নন। আমার মনে হয় না অ্যান্ড্রিসেন অ্যান্টিক্রাইস্ট। কারণ আপনারা তো জানেনই, অ্যান্টিক্রাইস্ট বেশ জনপ্রিয় হয়।”

যাকগে! এবার দৃশ্যপটে পিটার থিয়েলের প্রবেশ। কার্যত তিনি প্রলয়বাদীদের এক দীর্ঘ সারির সর্বশেষ সংযোজন; তবে তার নিজস্ব মোচড়টি হলো, এআই-এর মতো অদ্ভুত সব নতুন প্রযুক্তি ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধের দাবি তুলবে—আর সেটিই হবে এক মারাত্মক, প্রায় প্রলয়ংকরী ভুল। খোদ এআই জগতের শীর্ষ নেতারাই যখন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে এই নতুন প্রযুক্তি এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তখন থিয়েলের এই উদ্বেগ একজন প্রলয়বাদীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ধারণার ঠিক বিপরীত।

থিয়েল যাকে বিদ্রূপ করে ‘নিরাপত্তাবাদ’ (safetyism) বলেন, সেই প্রবণতার সমালোচনায় তার ধর্মতাত্ত্বিক যুক্তিটি দাঁড়িয়ে আছে থেসালনীয়দের প্রতি সেন্ট পলের প্রথম পত্রের একটি পদের ওপর। সেখানে এই ধর্মপ্রচারক সতর্ক করেছেন যে, অনেকেই মানুষকে মিথ্যা নিরাপত্তার মোহে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে “শান্তি ও নিরাপত্তা”র কথা প্রচার করবে, আর তখনই হঠাৎ যিশু ফিরে আসবেন, অ্যান্টিক্রাইস্টের আবির্ভাব ঘটবে এবং অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হয়ে যাবে।

এই ধরনের শান্তি ও নিরাপত্তার প্রবক্তাদের থিয়েল একটি ‘নিবৃত্তকারী’ বা ‘বাঁধাদানকারী’ (restraining) শক্তির সাথে চিহ্নিত করেন, যা অ্যান্টিক্রাইস্টের আগমনের লক্ষণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যান্টিক্রাইস্টের পথই প্রশস্ত করবে। এই ধরনের ‘নিবৃত্তকারী’র একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি অ্যান্থনি ফাউসির দিকে আঙুল তুলেছেন। আর এখন যত বেশি সম্ভব মানুষকে রক্ষা করার উদ্বেগ নিয়ে কাজ করা ‘ইফেক্টিভ অল্ট্রুইজম’-এর প্রবক্তারা পড়েছেন থিয়েলের নিশানায়। এই ‘নিবৃত্তকারী’ বোঝাতে থিয়েল মূল গ্রিক শব্দ ‘কাটেকন’ (katechon) ব্যবহার করেন—আর তা তো তিনি করবেনই! দুর্বোধ্য সব পরিভাষা ব্যবহার করা সেই রহস্যময়তারই অংশ, যা প্রলয়বাদকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং ভবিষ্যদ্বক্তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়।

তাহলে আসল অ্যান্টিক্রাইস্ট কে? থিয়েল একপর্যায়ে এই ধরনের জল্পনা-কল্পনাকে ‘সস্তা’ (down-market) আচরণ বলে উড়িয়ে দিলেও, নিজে শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে মতামত দেওয়ার লোভ সামলাতে পারেননি। রোমান পোপকে অ্যান্টিক্রাইস্ট বা তার সহযোগী হিসেবে দেখা অন্তিম কাল তত্ত্বের একটি চিরচেনা রীতি, এবং ‘ফার্স্ট থিংস’-এর প্রবন্ধে থিয়েল সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস হয়তো অ্যান্টিক্রাইস্ট ছিলেন। এর আগে ফাঁস হওয়া বক্তৃতার কিছু অংশে তিনি বর্তমান আমেরিকান পোপ চতুর্দশ লিও (Leo XIV)-কে “চীনা কমিউনিস্ট এজেন্ট” বা আরও সম্প্রতি বেইজিংয়ের “কাজের বোকা” (useful idiot) বলে অভিযুক্ত করেছেন, কারণ পোপ এআই-কে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে চান—যা থিয়েলের চোখে পুরোদস্তুর অ্যান্টিক্রাইস্ট-সুলভ আচরণ।

ক্যাথলিক চার্চের সাথে থিয়েলের সম্পর্কটা বেশ অদ্ভুত। তার প্রোটেস্ট্যান্ট ঐতিহ্যের পোপ-বিরোধী ধারার প্রতি বিশ্বস্ত থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, পোপ চতুর্দশ লিও একজন “প্রগতিশীল (woke) আমেরিকান পোপ”, যিনি আমেরিকান উদারপন্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে এক স্বৈরাচারী “রাষ্ট্র ও পোপতন্ত্রের অশুভ আঁতাত” (Caesaro-Papist fusion) গড়ে তুলবেন।

অথচ একই সময়ে, জার্মানিতে জন্ম নেওয়া থিয়েলের রেকর্ড-ভাঙা আর্থিক সহায়তাই জেডি ভ্যান্সকে—যিনি অপেক্ষাকৃত সম্প্রতি ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন—মার্কিন সিনেটে এবং এখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মাত্র এক কদম দূরে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের স্বল্প-পরিচিত ক্যাথলিক সাহিত্য তাত্ত্বিক রেনে জিরার্ডকে (René Girard) আমেরিকার রাজনৈতিক ডানপন্থীদের আধ্যাত্মিক গুরুতে পরিণত করেছেন এই থিয়েলই—যদিও তা তিনি করেছেন জিরার্ডের বিখ্যাত ‘বলির পাঁঠা কৌশল’ (scapegoat mechanism)-সংক্রান্ত শিক্ষাকে পুরোপুরি উল্টে দিয়ে; যে তত্ত্বে বলা হয়েছে কীভাবে একটি সমাজ নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ মেটাতে তাদের সমস্ত সমস্যার দায় কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়।

থিয়েলের সাম্প্রতিক প্রবন্ধটি আরেকটি কারণে বেশ ব্যতিক্রমী বা অভিনব: ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৭তম অধ্যায়ের এক রূঢ় চিত্রকল্পের আদলে মৌলবাদী প্রোটেস্ট্যান্টরা প্রথাগতভাবে পোপতন্ত্রকে ‘ব্যাবিলনের বেশ্যা’ (Whore of Babylon) বলে নিন্দা করলেও, থিয়েল সে পথে হাঁটেননি। বরং তিনি একজন পোপকে—প্রয়াত ষোড়শ বেনেডিক্টকে (Benedict XVI)—নিজের একান্ত আমেরিকান ও প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বদৃষ্টির ভেতর আত্মীকরণ করার চেষ্টা করেছেন, এবং তাকে দাঁড় করিয়েছেন খোদ পোপতন্ত্র ও ক্যাথলিক চার্চেরই বিরুদ্ধে।

থিয়েল বলেন, “আমি পোপের চেয়ে বেশি ক্যাথলিক সাজার চেষ্টা করতে রোমে আসিনি, তবে একজন প্রোটেস্ট্যান্ট হয়েও সাধারণ ক্যাথলিকদের চেয়ে বেশি ক্যাথলিক হওয়ার আশা আমি সত্যিই করেছিলাম।” তার লক্ষ্য হলো ২০১৩ সালে পোপের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া এবং ২০২২ সালে ভ্যাটিকানে নিভৃতে মৃত্যুবরণ করা বেনেডিক্টকে এমন একমাত্র ক্যাথলিক নেতা হিসেবে তুলে ধরা, যিনি অ্যান্টিক্রাইস্ট ও অন্তিম কালের আসন্ন হুমকিটি বুঝতে পেরেছিলেন—অর্থাৎ একমাত্র ক্যাথলিক যিনি আসল সত্যটা ধরতে পেরেছিলেন।

মানতেই হবে, পোপদের মধ্যে একমাত্র বেনেডিক্টই থিয়েলকে এমন এক চিলতে সুযোগ করে দিয়েছেন, যা আঁকড়ে ধরে থিয়েল নিজের তত্ত্ব খাড়া করতে পারেন। কার্ডিনাল জোসেফ র‍্যাটজিঙ্গার থাকাকালীন প্রথম জীবনে বেনেডিক্ট নিজেই যেমনটা লিখেছিলেন, তিনি ছিলেন “একজন একনিষ্ঠ অগাস্টিনপন্থী”, এবং সেন্ট অগাস্টিনের মতোই মানবজাতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশ নৈরাশ্যবাদী। থিয়েল তরুণ র‍্যাটজিঙ্গারের লেখা সেন্ট বোনাভেঞ্চারের ইতিহাসের ধর্মতত্ত্ব-বিষয়ক গবেষণাপত্রটির পেছনে অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন—যা অত্যন্ত জটিল ও দুর্বোধ্য একটি বিষয়, যেখানে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতালীয় ফ্রান্সিসকান সাধক বোনাভেঞ্চার তার এক শতাব্দী আগের ইতালীয় মঠাধ্যক্ষ জোয়াকিম অব ফিওরের (Joachim of Fiore) অদ্ভুত সব প্রলয়বাদী লেখার খণ্ডন করেছিলেন।

র‍্যাটজিঙ্গার আসলে কী লিখেছিলেন এবং কী বোঝাতে চেয়েছিলেন তা বাদ দিয়ে, জোয়াকিম অব ফিওরের বদলে বোনাভেঞ্চারের প্রতি র‍্যাটজিঙ্গারের সমর্থনকে থিয়েল কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে এই লক্ষণ হিসেবে ধরে নেন যে, র‍্যাটজিঙ্গার নিজেই মহাপ্রলয়ের পদধ্বনি শুনতে পেয়েছিলেন। তার তৃতীয় বক্তৃতায় থিয়েল একটি পাদটীকার ভেতরের এক উদ্ধৃতি থেকে এই বিষয়ে অদ্ভুত ও কল্পনাপ্রসূত এক সিদ্ধান্তে পৌঁছান:

“সংক্ষেপে মূল কথাটি (TL;DR) হলো: আমার বিশ্বাস, বেনেডিক্ট আক্ষরিক অর্থেই মনে করতেন যে তার পোপ থাকার সময়ে চার্চ থেকে মানুষের ঐতিহাসিক বিচ্যুতি ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটা ছিল অন্তিম কালেরই একটি লক্ষণ।

এর সপক্ষে কি কোনো প্রমাণ আছে? নানা ধরনের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে। ১৯৫৯ সালে বোনাভেঞ্চারের ওপর তার অধ্যাপনা-সংক্রান্ত গবেষণাপত্র লেখার সময় তিনি অ্যান্টিক্রাইস্ট এবং ব্যাবিলনের বেশ্যা সম্পর্কে দারুণ সব রঙিন ভাষা ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? একটি পাদটীকায় তিনি সবচেয়ে রহস্যময় ও গূঢ় ভঙ্গিতে তা লিখেছেন। নিজের ভাষায় নয়, বরং অন্য একজন অধ্যাপককে উদ্ধৃত করে র‍্যাটজিঙ্গার লিখেছিলেন—অবশ্যই তিনি পোপ হওয়ার আগে: ‘বোনাভেঞ্চারের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, প্রলয়বাদী চিত্রকল্পকে সঠিক সীমার মধ্যে বেঁধে রাখা কতটা কঠিন। প্রলয়বাদী চিত্রকল্প হলো দুই কূল ছাপিয়ে বয়ে যাওয়া জলের তোড়ের মতো, যাকে বাঁধের ভেতর আটকে রাখা দুষ্কর। আর সেই চিত্রকল্পকে নরম করার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, প্রলয়ের সুরটিই শেষ পর্যন্ত প্রধান হয়ে ওঠে। এমনকি একজন মোৎসার্টও ট্রাম্পেটকে তার ট্রাম্পেটের মতো বাজতে ভুলিয়ে দিতে পারেন না।’ অর্থাৎ ব্যাপারটা যেন এমন যে আপনি বলছেন, আপনি যদি এসব নিয়ে চিন্তা করেন, তবে তা নিয়ে কখনোই মুখ খুলতে পারবেন না। এ নিয়ে টু শব্দটিও যদি করেন, তবে সেটিই সবকিছুকে গ্রাস করে নেবে এবং আপনি অন্য আর কিছুই বলতে পারবেন না।”

ভবিষ্যৎ পোপ বেনেডিক্টও যে থিয়েলের মতোই আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর অন্তিম কাল নিয়ে মগ্ন ছিলেন, তার প্রমাণ কী? প্রমাণ হলো, তিনি কখনোই এ নিয়ে কথা বলতেন না!

র‍্যাটজিঙ্গার আসলে যা চেয়েছিলেন তা হলো, মানুষ নিজের চেষ্টায় এই পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এই ধারণাটিকে এড়িয়ে চলতে; যা ছিল মূলত মার্কসবাদ-প্রভাবিত ‘মুক্তির ধর্মতত্ত্ব’ (liberation theology)-এর বিরুদ্ধে তার কয়েক দশকব্যাপী অভিযানেরই পূর্বাভাস, অ্যান্টিক্রাইস্টের পক্ষে কোনো অবস্থান নয়। তবুও থিয়েল র‍্যাটজিঙ্গারের বক্তৃতা ও লেখালেখি থেকে অন্তিম কাল তত্ত্ব-সংক্রান্ত নানা মন্তব্য—থিয়েলের ভাষায় ‘রুটি-টুকরো’ বা ‘সূত্র’ (breadcrumbs)—খুঁটে বের করেই চলেন, বিশেষ করে দশকের পর দশক ধরে র‍্যাটজিঙ্গারের নিজস্ব ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিও যখন স্বীকার্যভাবেই আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রক্ষণশীল হয়ে উঠেছিল। আধুনিক যুগে নজিরবিহীনভাবে পোপের পদ থেকে বেনেডিক্টের পদত্যাগকেও থিয়েল অ্যান্টিক্রাইস্টের আগমন সম্পর্কে বেনেডিক্টের “চোখের ইশারা ও ইঙ্গিত” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

অন্যের মুখে নিজের কথা বসিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা যেমন অদ্ভুত, তেমনই অস্বস্তিকর; কিন্তু থিয়েল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, অ্যান্টিক্রাইস্ট প্রসঙ্গে “এই প্রলয়বাদী উচ্ছ্বাসগুলো বেনেডিক্টকে নরকের আগুন ও গন্ধকের ভয় দেখানো সাউদার্ন ব্যাপ্টিস্ট প্রচারকদের মতো শোনায়।”

এই মন্তব্যটিই থিয়েলের মূল সমস্যাটিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আর তা হলো তিনি রোমান ক্যাথলিক ধর্মকে একটি ইভানজেলিক্যাল প্রোটেস্ট্যান্ট চশমা দিয়ে দেখতে চান—যেখানে অন্তিম কাল মানেই এক বৈশ্বিক মহাপ্রলয়, যেখান থেকে ‘মুক্তিপ্রাপ্ত’দের উদ্ধার করা হবে এবং তাদের ধার্মিকতা প্রমাণিত হবে। অথচ র‍্যাটজিঙ্গার, বা পরবর্তীকালের পোপ বেনেডিক্ট, ছিলেন আপাদমস্তক একজন ক্যাথলিক যাজক; ইতালীয় ধর্মতাত্ত্বিক মার্সেলো নেরির ভাষায়, তিনি পৃথিবীর সমাপ্তির চেয়ে “ক্যাথলিক চার্চের একটি ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন।” র‍্যাটজিঙ্গার সেই সব ক্যাথলিক উদারপন্থীদেরই প্রলয়ংকরী হুমকি হিসেবে দেখতেন, যারা চার্চের মূল মতবাদ ও অনুশাসনকে লঘু করে ফেলতে চায়—আর সেই হুমকিটি ক্যাথলিক চার্চের জন্য, পুরো পৃথিবীর জন্য নয়। র‍্যাটজিঙ্গার বিশ্বাস করতেন, ইতিহাস তার আপন গতিতেই চলবে। কেবল আধুনিকতাবাদী স্রোতের অনুপ্রবেশের কারণে চার্চের ভাগ্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। থিয়েল এখানে একটি মৌলিক তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি (category error) ঘটাচ্ছেন, যা তার পুরো যুক্তিকেই দুর্বল করে দেয়। এটি একদম থিয়েল-সুলভ ব্যাপার।

দিনের শেষে এবং তার প্রবন্ধের উপসংহারে দেখা যায়, থিয়েলের গালভরা ভাষা আর বিশাল প্রকল্পটি আদতে খুবই সাধারণ এক মতাদর্শিক এজেন্ডা। থিয়েলের রোম বক্তৃতার তীব্র প্রত্যুত্তরে ইতালীয় ফ্রান্সিসকান পাওলো বেনান্তি লিখেছেন, “সর্বোপরি থিয়েল হলেন সিলিকন ভ্যালির ইকোসিস্টেমের একেবারে কেন্দ্রে বসে কাজ করা একজন রাজনৈতিক ধর্মতাত্ত্বিক।” বেনান্তি ব্যাখ্যা করেন যে, এই মতাদর্শের মধ্যে রয়েছে গুটিকয়েক পশ্চিমা মূল্যবোধের—যেমন “প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তি, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য”—এক “বিকারগ্রস্ত চরমপন্থায় রূপান্তর”, যার ফলাফল “সাধারণ গণতান্ত্রিক প্রকল্পের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যায়।” নাওমি ক্লেইন এবং অ্যাস্ট্রা টেইলর তাদের নতুন বই ‘এন্ড টাইমস ফ্যাসিজম: অ্যান্ড দ্য ফাইট ফর দ্য লিভিং ওয়ার্ল্ড’ (End Times Fascism: And the Fight for the Living World)-এ এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

উইলিয়াম এফ. বাকলি একসময় যেমনটা বলেছিলেন, উদারপন্থীরা যদি পরকালের চিন্তা বাদ দিয়ে এই জীবনেই ভালো কাজ করার মাধ্যমে “ইহলোকেই স্বর্গরাজ্য নামিয়ে আনতে” (immanentize the eschaton) চায়, তবে রক্ষণশীলদের ঝোঁক থাকে মহাপ্রলয়ের আগে ব্যক্তিগত আত্মার মুক্তির দিকে। এই অন্তিম কাল তত্ত্বটি তাদের সাথে দারুণভাবে মিলে যায়, কারণ এটি থিয়েলের মতোই এক অবাধ স্বাধীনতাবাদী (libertarian) মানসিকতার দিকে ঝোঁকে: যিশু তো শীঘ্রই ফিরে আসছেন, তাই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বেড়াজালে আটকে থাকার দরকার কী! গত মাসে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের সিইও মাথিয়াস ডপফনারের সাথে এক পডকাস্টে থিয়েল যেমনটা বলেছেন, “আমরা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি নীতিবাগীশতা দেখাই। আপনি যদি অশুভ বা শয়তানও (evil) হন, তবু অন্তত আপনি দক্ষ। আর আপনি যদি অশুভ হন, তবে আপনি অকর্মণ্য বা বাজে (bad) নন, এবং সে কারণে আপনি আসলে হয়তো একধরনের ভালোই করছেন, কারণ আপনি অন্তত কিছু একটা কাজ তো করে দেখাচ্ছেন।” এর বদলে থিয়েলের পরামর্শ হলো, যতক্ষণ রোদ আছে ততক্ষণ খড় শুকিয়ে নাও—অর্থাৎ সময় থাকতে থাকতে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নাও। জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগ? ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার এই দুশ্চিন্তা তো ঈশ্বরের ওপর আস্থার অভাবকেই প্রকাশ করে! আর এ কারণেই পূর্ববর্তী পোপ এবং ইফেক্টিভ অল্ট্রুইজম আন্দোলনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও অ্যান্টিক্রাইস্ট হতে পারেন বলে থিয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

অথবা হতে পারে—তিনি এক বক্তৃতায় এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন—পুরো ব্যবস্থাটিই (system) হলো আসল অ্যান্টিক্রাইস্ট, বিশেষ করে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

“বুক অব রেভেলেশন আমাদের একরকম বলেই দেয় যে, অ্যান্টিক্রাইস্ট আর্থিক স্বাধীনতা বিলুপ্ত করবে। রেভেলেশন ১৩:১৬-১৭: ‘সে ছোট ও বড়, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও ক্রীতদাস—সকলকেই তাদের ডান হাতে বা কপালে একটি ছাপ নিতে বাধ্য করবে, যাতে সেই ছাপ বা জন্তুটির নাম বা তার নামের সংখ্যা ছাড়া কেউ কিছু কিনতে বা বিক্রি করতে না পারে।’

এখানে পুরো এক জটিল জাল ছড়ানো রয়েছে, যেখানে গত ২৫ বছরে—২০০০ সালের পর থেকে শুরু হওয়া একঘেয়ে, প্রতিদিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিময় (Groundhog Day) এই একবিংশ শতাব্দীতে—আপেক্ষিক শান্তি ও নিরাপত্তার আড়ালে কর চুক্তি, আর্থিক নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞার এক অবিশ্বাস্য যন্ত্র বা কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। আর প্রযুক্তি জগতের এই বিপুল সম্পদ এই বিশাল ব্যবস্থারই অধীন। আপনার মনে ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসনের একটি ভ্রম থাকবে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই অনুভূতিও কাজ করবে যে যেকোনো মুহূর্তে তা কেড়ে নেওয়া হতে পারে। নিজের টাকা লুকিয়ে রাখা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি স্বীকার করেন যে, “অ্যান্টিক্রাইস্ট-সদৃশ এই ব্যবস্থা, এই যন্ত্রটি” রক্তমাংসের একজন মানব অ্যান্টিক্রাইস্টের (যার বয়স, আবারও বলা বাহুল্য, সম্ভবত সাঁইত্রিশ বা সাড়ে তেত্রিশের কম হওয়া উচিত) চেয়ে ভিন্ন গতিতে চলে; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এটি “রাতারাতি না হলেও তুলনামূলকভাবে দ্রুতই গড়ে তোলা হয়েছে, এবং মনে হয় যেন একটি সুইচ টিপলেই এটি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।” এসব শুনে যদি মনে হয় এটি অ্যান্টিক্রাইস্টের এমন এক সংজ্ঞা যা কেবল একজন বিলিয়নিয়ারেরই পছন্দ হতে পারে, তবে তিনি শ্রোতাদের আশ্বস্ত করেন যে ব্যাপারটি তার চেয়েও বেশি কিছু:

“আর অবশ্যই এটি কেবল একটি আর্থিক ব্যবস্থাই নয়। কোনো কোনো অর্থে এটি একটি মতাদর্শিক ব্যবস্থাও বটে। অ্যান্টিক্রাইস্ট কেবল টাকাতেই থেমে থাকবে না। অ্যান্টিক্রাইস্টকে থামানোর জন্য টাকা যথেষ্ট নয়, আর তার মানে হলো সে আপনার কাছ থেকে আরও বেশি কিছু চায়।”

থিয়েলের মতে, এর মধ্যে আরও রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং যেভাবে তা ভ্লাদিমির পুতিন, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সাবেক সদস্যদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে; রয়েছে নাৎসি প্রতীক এবং অনলাইনে মানহানি সংক্রান্ত জার্মানির কঠোর আইন; এবং অস্ট্রেলিয়ার বয়স যাচাইকরণ আইন—যার সবকিছু মিলেমিশে অন্তিম কালের এমন এক দৃশ্যকল্প তৈরি করে যা তাকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। এটি ঠিক নরকের আগুন ও গন্ধকের মতো শোনায় না বটে, কিন্তু থিয়েলের কাছে তা ঠিক তা-ই।

পিটার থিয়েলের যত খ্যাতি ও মেধাই থাকুক না কেন—ভ্যান্স তাকে “আমার দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ” বলে অভিহিত করেছেন—তার আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনাগুলো শেষ বিচারে খুবই সাধারণ ও মূলধারার। ভ্যান্স নিজেও সম্প্রতি একজন জনপ্রিয় ইভানজেলিক্যাল ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে এক দীর্ঘ পডকাস্টের কিছু অংশ ব্যয় করেছেন অন্তিম কাল এবং অ্যান্টিক্রাইস্ট নিয়ে কথা বলে। এটি বেশিরভাগ ক্যাথলিককেই হতবাক করে দিয়েছে, কিন্তু ভ্যান্সের বন্ধু ও রক্ষণশীল খ্রিস্টান ভাষ্যকার রড ড্রেহার যেমনটা বলেছেন, এটি “অত্যন্ত সাধারণ ও প্রচলিত একটি বিশ্বাস।”

এই বিশ্বাসগুলো আমেরিকার ক্রমবর্ধমান ‘নিজে করি’ (DIY) ধাঁচের ধর্মীয় সংস্কৃতিরই প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান এবং রক্তমাংসের মানুষের ধর্মীয় সমাজ বা গির্জার জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন। ধর্মের ক্ষেত্রে এখন মনে হয় সবাই নিজ নিজ গবেষণা করে নেয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব ধর্মপ্রচারের আসর খুলে বসে।

পার্থক্যটা হলো, থিয়েল রাজনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন অতি-ধনী ইনফ্লুয়েন্সার। পুরনো কাপড় জোড়াতালি দেওয়ার মতো করে ধর্মতত্ত্বের নানা টুকরো কুড়িয়ে তিনি নিজের যে প্রলয়বাদী রূপকল্পটি সেলাই করেছেন, তাকে হয়তো একদিক থেকে খামখেয়ালি কিন্তু নিরীহ বলেই মনে হতো—যদি না তিনি সেই রূপকল্পটিকে ব্যবহার করে মুক্তিপ্রাপ্ত ও অভিশপ্তদের মধ্যে এক ঈশ্বরতুল্য বিচারক হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতেন; যাকে প্রায় একধরনের অ্যান্টিক্রাইস্ট বললেও ভুল হয় না। অন্তিম কাল তত্ত্ব চিরকালই এই কাজটি করে এসেছে, কিন্তু পিটার থিয়েলের হাতে যে পরিমাণ ক্ষমতা রয়েছে, খুব কম প্রলয়বাদী প্রচারকের হাতেই তা ছিল—আর তার নিজস্ব বলয়ের বাইরে থাকা আমাদের মধ্যে খুব বেশি মানুষকে তিনি মুক্তির যোগ্য বলে মনে করেন বলেও মনে হয় না।

নোট – মূল ইংরেজি লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল দ্য ভার্জ -এ। অক্টোবর ২০, ২০২৬। অনুবাদে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে।

মূল লেখার লিংক – https://www.theverge.com/tech/1014252/peter-thiel-antichrist-lectures-analysis

This post has already been read 27 times!

Leave a Reply