শওকত আলীর কথাসাহিত্য: তিন প্রেক্ষাপট

Spread the love
কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর অসামান্য সৃষ্টিকে তিনটি প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করতে হবে বলে আমি মনে করি। প্রথমটি হচ্ছে ইতিহাস এবং ফিকশনের সম্পর্ক; দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের বিভিন্ন প্রবণতা, বিশেষত যে সময় তিনি লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন সেই ষাটের দশকের প্রবণতাসমূহ; তৃতীয়ত তাঁর উপন্যাসের পটভূমি এবং চরিত্রগুলো। সাহিত্য বিষয়ক যে কোনো আলোচনাই সাবজেকটিভ; পাঠক হিসেবে ওই আলোচক কিভাবে সাহিত্যকে দেখেন তার ওপরে সেটা নির্ভর করে। আমার এই লেখা তার ব্যতিক্রম নয়। পাঠক হিসেবে আমি সাহিত্য এবং সাহিত্যিককে তাঁর দেশকালের প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করি। এমনকি কালোত্তীর্ণ সাহিত্যও একটা সময়ের ভেতরে স্থাপিত বলে আমার ধারণা। ফলে শওকত আলীকেও আমি সেইভাবেই বিবেচনা করি, তাঁর লেখা আমি সেইভাবেই পড়ি।
ইতিহাস এবং ফিকশনের সম্পর্ক বিষয় নিয়ে বৈশ্বিক সাহিত্য প্রেক্ষাপটে যে আলোচনা তার কোনো সুস্পষ্ট প্রভাব আমরা বাংলা ভাষায় দেখতে পাইনা। যা আছে তা অত্যন্ত সীমিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা একেবারেই অনুপস্থিত। দক্ষিন এশিয়ায় বেশ জোরেসোরে এই প্রসঙ্গের অবতারনা ঘটেছে ১৯৪৭ প্রসঙ্গে, যাকে আমরা দেশভাগ বা পার্টিশন বলেই চিহ্নিত করি। এই আলোচনার অন্যতম একটি অন্যতম সূত্র হচ্ছে ১৯৪৭ বিষয়ে ডমিন্যান্ট বা প্রচলিত ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক। উপমহাদেশের ইতিহাস বিষয়ে ঐতিহাসিকদের বর্ণনা এবং সরকারী ভাষ্য প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে প্রশ্নাতীতভাবে নারী, প্রান্তিক জন এবং সাধারন মানুষকে অবজ্ঞা করেছে। শুধু তাই নয়, এই সব প্রচলিত ইতিহাস নির্মিত হয়েছে ব্যক্তি ও দলকে কেন্দ্র করে, তাঁদের ভূমিকা এবং সাফল্যের জয়গাঁথা বর্ণিত হয়েছে ইতিহাসে। এই ইতিহাস-বর্ণনাকে যখন সমাজবিজ্ঞানীরা প্রশ্নবিদ্ধ করলেন, বিশেষত ১৯৮০-এর দশকে, তখন থেকেই ইতিহাসের অন্যান্য উপাদানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষনের উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেলো। সেই পটভূমিকায়ই সাব-অল্টার্ন বা ব্রাত্যজনের ইতিহাসের গুরুত্বকে ধর্তব্যে নেয়ার ধারা তৈরি হয়। সেই সময়ে সমাজের অন্যান্য প্রান্তিকায়িত বর্গের মানুষের কথা উঠে আসলো, জেন্ডারের প্রশ্নও আসলো – নারীর ভূমিকার প্রশ্ন আসলো। একইভাবে এই সব বিষয়ের সাহিত্যিক প্রকাশ, যার একটি বড় দিক হচ্ছে ফিকশন, সে দিকেও মনোযোগ আকর্ষিত হল।
অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা যে ফিকশনের এই ধারা ইতিহাসের ‘গাম্ভির্য্য’ এবং ‘সত্যনিষ্ঠার’ বিপরীতে, ফলে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কিন্ত এটা ক্রমেই স্পষ্ট যে ইতিহাসের যে ডমিন্যান্ট ধারা, যা আসলে নির্ধারিত হয় রাজনীতি ও সমাজে ক্ষমতা কাঠামো দিয়ে, তার বাইরের কন্ঠস্বর তুলে আনার জন্যে মৌখিক ইতিহাস (ওরাল হিস্ট্রি), স্মৃতিকথা, আত্মজীবনী এবং ফিকশনের গুরুত্বকে অস্বীকারের উপায় নেই। ইতিহাসের যে বিভিন্ন ধরণের বয়ান (ন্যারেটিভ) থাকে তা কেবল দলিল-নির্ভর বা পরিচিত ক্রীড়নকদের কথনেই থাকে তা নয়; ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন ন্যারেটিভ আমরা অন্যত্রও দেখতে পাই। এগুলো ইতিহাস-বর্ণনার বিকল্প নয়। বরঞ্চ এগুলো একাদিক্রমে প্রচলিত ইতিহাসের পরিপূরক এবং সেই ইতিহাসে অনুপস্থিত ভাষ্য। পাশাপাশি ইতিহাস-আশ্রয়ী/ ইতিহাস-নির্ভর ফিকশন যে কাজটি করে তা হচ্ছে পাঠককে ‘ঘটনার অত্যাচার’ থেকে মুক্ত করে; এই ধরণের ফিকশন আমাদেরকে ওই সময়ের ভেতরে আপাতদৃষ্ট নয় কিন্ত উপস্থিত প্রবণতাগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি মনে করি যে, শওকত আলীর উপন্যাস এবং ছোট গল্প পড়লে আমরা সেই সময়কে বুঝতে পারি। কেবল ঘটনা প্রবাহের কারণে নয়, বরঞ্চ তারচেয়ে বেশি করে সেই সময়ের সমাজের ভেতরে প্রবহমান ধারা ও প্রবণতাকে। এই ধরণের ফিকশন আমাদেরকে কেবল চরিত্র বা কাহিনী উপহার দেয় না, যা দেয় তা হচ্ছে দেখবার চোখ। কিছু কিছু লেখক আছেন যারা জীবন সম্পর্কে, চারপাশের জগত সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দেন; আমাদেরকে তাঁরা যা দেন তা হচ্ছে দেখার চোখ, সমাজকে বোঝার যুক্তি এবং অনুভব করবার মতো হৃদয়। এই ধরণের লেখকদের মধ্যে সৃষ্টিশীল লেখকরাই অন্যতম। কথা সাহিত্যিক শওকত আলী সেই ধারার লেখক।
তাঁর অনেক উপন্যাস এবং ছোটগল্প এইভাবে অর্থাৎ সমাজের ভেতরে প্রবহমান প্রবণতার ভাষ্য বলে পাঠ করা সম্ভব। আমি তিনটির কথা উল্লেখ করতে চাই। তাঁর ট্রিলজি ‘দক্ষিনায়নের দিন’; বহুল পরিচিত এবং আলোচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ এবং ‘নাঢ়াই’। ১৯৭৬, ১৯৭৭ এবং ১৯৭৮ সালে তার তিনটি উপন্যাস – দক্ষিনায়নের দিন, কূলায় কালস্রোত এবং পূর্বদিন পূর্ব রাত্রি প্রকাশিত হয়েছিলো সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায়। এই তিন উপন্যাসের সময় হচ্ছে ষাটের দশকের উত্তাল আন্দোলন। ষাটের আন্দোলনের পটভূমি যে কেবল ইতিহাসের ধারাবাহিক বর্ণনার মধ্যে নেই তা আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি ওই তিন উপন্যাস পাঠ করে। যে জাগরণের উত্তরাধিকার হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ তা কেবল ঘটনা পরম্পরা নয়, সমাজের ভেতরে ধীরে ধীরে যে বদল ঘটেছিলো তাকে অনুভব না করে ইতিহাসকে বোঝার চেষ্টার মধ্যে অপূর্নতা থাকবে সেই সত্য আমি শওকত আলীর উপন্যাস পড়ে উপলব্ধি করি। এই যে উপন্যাসের মধ্যে, রাখির জীবনের মধ্যে, তাঁর ব্যর্থতার, অপূর্নতার মধ্যে, দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেই একটা জনপদের মানুষেরর ইতিহাস লেখা হয়েছে সেটা বুঝতে পারি কিন্ত উপন্যাসের যে শিল্পরূপ তাকে বাদ দিয়ে নয়। হৃদয় দিয়ে ইতিহাসকে বোঝার অর্থ যে সমাজের মর্মবানীকে উপেক্ষা করা নয় সে কথা বোঝার পথ হচ্ছে এই তিনটি উপন্যাস। সেন রাজার শাসন শেষ পর্যায়ে তুর্কী আগমনের অন্তর্বর্তী সময়কে ধারন করা হয়েছে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। এর ঐতিহাসিক পটভূমি বিস্তারিতভাবে বলার প্রয়োজন হয়না। সম্ভবত শওকত আলীর সবচেয়ে পঠিত উপন্যাস হচ্ছে ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। ‘নাঢ়াই’ উপন্যাস আমার বিচারে ইতিহাস, তেভাগা আন্দোলনেরই ইতিহাস। শওকত আলী আমাদেরকে ইতিহাসচারী হতে বলেছেন, অন্যথায় কেন তিনি ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ লিখবেন? একাধিক সাক্ষাতকারে তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে এটা ‘ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়।’ কিন্ত ইতিহাস তো কেবল ঘটনার বর্ণনা নয়। ইতিহাস হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের যে স্রোত। ইতিহাসের সেটাই মর্মবস্ত। কথাসাহিত্য আমাদের ইতিহাসের ধারাক্রম বোঝায় না, কিন্ত ফিকশন আমাদেরকে জানিয়ে দেয় সমাজের ভেতরে কী ধারাগুলো প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অর্থে এগুলো ইতিহাসের পাঠ। ইতিহাস ও সাহিত্যের এই সম্পর্কের প্রশ্নটি বোঝার এবং এই বিষয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছেন শওকত আলী। সেই আলোচনা এখন আমাদের জন্যে আরো জরুরি কেননা সমাজ ও রাজনীতিতে ক্ষমতা সম্পর্ক বাংলাদেশের ইতিহাসের যে ডমিন্যান্ট ন্যারাটিভ তৈরি করেছে তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে আমাদের এই দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
শওকত আলীর কাজকে বিচারের দ্বিতীয় প্রেক্ষাপট হচ্ছে বাংলাদেশের সাহিত্যের প্রচলিত প্রবণতা। বিশেষ করে যে সময়ে তিনি সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করলেন সেই প্রেক্ষাপট। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, যখন পূর্ব বাংলা একটি রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রকাশিত হল যেখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার একটা নতুন এবং ভিন্ন ধারা গড়ে ওঠার সুযোগ এবং সম্ভাবনা তৈরি হল। সেটা কবিতা এবং কথাসাহিত্য দুইয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমার ধারণা কথা সাহিত্যে সেই পরিবর্তন, আলাদা কণ্ঠস্বরটা তৈরি হয় পঞ্চাশের দশকে। যার উদাহরণ হচ্ছেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্, শওকত ওসমান, আবু ইসহাক, আবু রুশদ, সরদার জয়েনউদ্দীন, রশীদ করীম, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শাহেদ আলী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, হাসান হাফিজুর রহমান, মুর্তজা বশীর, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ। সবাই একই ধারায় লিখলেন তা নয়, কিন্ত একটা স্বতন্ত্র ধারা তৈরি হল। আমার কাছে এটাকে পুর্ব বাংলার আলাদা ধারা বলে মনে হয়। তখনকার কথাসাহিত্যে যে জীবন আমরা দেখতে পাই সেটা প্রধানত গ্রামীন জীবনের। শহর, নগর জীবন এই সব তৈরি হয়নি। ফলে মানুষের জীবনের কাহিনী গ্রাম জীবনের কাহিনী। শুধু তাই নয়, এই সব লেখকদের এক বড় অংশই সেইভাবেই জীবনের প্রাণ স্পন্দনকে অনুভব করেছে। ষাটের দশকে এসে মধ্যবিত্ত তৈরি হতে থাকলো, নগর জীবন তৈরি হতে থাকলো। আমরা দেখলাম যে কথাসাহিত্যে সেই জীবনের ছবি উঠে আসতে শুরু করেছে। সেটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্ত যেটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় তা হল যে বঢ় আকারের বাংলাদেশ, গ্রামের মানুষ, ব্রাত্যজন তাঁরা হারিয়ে যেতে থাকলেন। সে সময় যারা লিখলেন তাঁদের মধ্যে হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত আলী, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, আল মাহমুদ, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, কায়েস আহমেদ, মাহমুদুল হক, বুলবুল চৌধূরী, রিজিয়া রহমান আছেন যারা এই জীবনের দিকে তাকালেন। শওকত আলী যদিও ‘পিঙ্গল আকাশ’-এ মধ্যবিত্তের জীবনের দিকেই চোখ রেখেছিলেন, কিন্ত অবিলম্বে তিনি বড় আকারের বাংলাদেশকে ধরতে চাইলেন। বাংলাদেশে যে জনপদ, বাংলাদেশের মানুষের যে জীবন তাই হয়ে উঠলো তাঁর প্রধান বিষয়। ষাটের দশকের এক বড় সংখ্যক কথাসাহিত্যিক যে ধারাকে বেছে নিলেন শওকত আলী তা থেকে ভিন্ন হয়ে থাকলেন। তিনি এক স্বতন্ত্র কন্ঠস্বর হয়ে উঠলেন।
শওকত আলীর সাহিত্য বিচারের তৃতীয় প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিস্তারিত বলা বাহুল্য। যে মানুষদের কথা তিনি লেখেন তাঁরা ব্রাত্যজন। যেমন ‘নাঢ়াই’ উপন্যাস প্রান্তজনের মধ্যেও যারা প্রান্তজন তাঁদের কাহিনী। ফুলমতি, অল্প বয়সী বিধবা নারী, ফুলমতি বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের এক গণ্ডগ্রামের অতিদরিদ্র আধিয়ার আহেদালীর স্ত্রী এবং আবেদালী নামের এক বালকের জননী। দারিদ্র এবং জেন্ডার তাঁকে প্রান্তজনের প্রান্তজন করেছে। শওকত আলীর উপন্যাসে আমরা তাঁকে কেবল দেখিই না, তাকেই মনে হয় প্রতীক। শওকত আলীর লেখার পটভূমি ভৌগলিকভাবে উত্তর বাংলার। যে জনপদের কথা তিনি লেখেন সেটি উত্তর বাংলার মানুষের জীবন – যাকে আমরা তাঁর (এবং হাসান আজিজুল হকের) কলমে চিনতে পারি। এটা তাঁর অভিজ্ঞতা সঞ্জাত; তিনি যেখানে বড় হয়েছেন, যেখান থেকে তাঁর নতুন জীবনের সূচনা হয়েছে। ‘ওয়ারিশ’, ‘উত্তরের খেপ’ এবং ‘দলিল’ যারা পাঠ করেছেন তাঁরা শওকত আলীকে বোঝেন কোথায় তার শেকড়। তিনি শেকড় গেড়ে বসে আছেন শহরের আলো থেকে দূরে এমন এক জীবনে যেখানে আমাদের বড় সংখ্যক লেখকেরা কখনো যান না। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “নগরে বেশির ভাগ জীবন কাটিয়েছি বটে, কিন্তু আমার ভাবনায় ছিল সাধারণ মানুষ। আর কিছু সুযোগ হয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার, কিছু কৌতূহলও ছিল। গ্রামীণ জীবনের দিকে টান থাকার কারণে স্কুলে চাকরি করেছি কিছুদিন এম এ পাস করার পরে, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে। পরে সেখানে যখন প্রথম কলেজ হলো, সেই কলেজে চাকরি নিলাম। সেই অঞ্চলের উত্তরে যে আদিবাসীরা ছিল তাদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ হয়েছিল” (প্রথম আলো, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)।
শওকত আলীর সৃষ্টি আরো অনেকভাবেই বিশ্লেষিত হবে। আমি সেই আলোচনায় এই তিন প্রেক্ষাপট বিবেচনার তাগিদ জানাতে চাই বলেই এই লেখার অবতারণা।

About আলী রীয়াজ

আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক । তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিইচ-ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে অধ্যাপক রীয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বৃটেনের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ল্যাফলিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এ ছাড়া তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ইংরেজিতে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দশটি। এর মধ্যে রয়েছে– ‘পলিটিক্যাল ইসলাম এন্ড গভর্নেন্স ইন বাংলাদেশ’ (২০১০), ‘ফেইথফুল এডুকেশন : মাদ্রাসাজ ইন সাউথ এশিয়া’ (২০০৮) এবং ‘গড উইলিং – দি পলিটিক্স অব ইসলামিজম ইন বাংলাদেশ’ (২০০৪)। বাংলা ভাষায়ও তাঁর অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ‘স্টাডিজ অন এশিয়া’ জার্নালের সম্পাদক। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ইসলাম বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর স্বীকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালে ডক্টর রীয়াজকে ‘ইউনিভার্সিটি প্রফেসর’ পদে ভূষিত করে। ২০১৩ সালে তিনি ওয়াশিংটনে উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারস-এ পাবলিক পলিসি স্কলার হিসেবে কাজ করেন।

View all posts by আলী রীয়াজ →

Leave a Reply